তিন বছরে তিন সরকার তিন বাজেট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করা বিএনপি দীর্ঘ ১৯ বছর পর আবারও জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিজ্ঞাপন
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সর্বশেষ ২০০৬-০৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। সে সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবার নির্বাচিত সরকার সংসদে বাজেট পেশ করছে। বাজেটটি পাস হওয়ার কথা রয়েছে ৩০ জুন, আর নতুন অর্থবছর শুরু হবে ১ জুলাই থেকে।
বিজ্ঞাপন
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ঘোষণা করা হয় ১৯৭২ সালে, যা উপস্থাপন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। সেই ধারাবাহিকতায় এটি দেশের ৫৫তম বাজেট।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের প্রথম বাজেট ছিল মাত্র ৭১৯ কোটি টাকা। সেই হিসেবে ৫৫ বছরে বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ১,৩০৩ গুণ।
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ওই সরকারে নেতৃত্ব দেন মুহাম্মদ ইউনূস। সে বছর বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা।
বিজ্ঞাপন
২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এটি ছিল টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার প্রথম বাজেট উপস্থাপন। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তন হয় এবং ক্ষমতা থেকে সরে যায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন প্রশাসন।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের বাজেটে আয়-ব্যয়ের বড় কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, আর ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
বিজ্ঞাপন
এই ঘাটতি পূরণে দেশি ও বিদেশি উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে বাজেট উপস্থাপন করা হবে। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন-এর অনুমোদনের পর এটি কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকে।








