জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবুজায়নের বিকল্প নেই: ডিসি ফরিদা

দ্রুত নগরায়ণ, বায়ু ও পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে ঢাকা নানা ধরনের পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং সবুজায়নের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। তিনি বলেছেন, গাছ লাগানো কেবল একটি দায়িত্ব নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি রাজধানী ঢাকাকে পরিবেশবান্ধব, সবুজ ও বসবাসের উপযোগী নগরীতে রূপান্তর করতে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক বলেন, দ্রুত নগরায়ণ, বায়ু ও পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে ঢাকা নানা ধরনের পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং সবুজায়নের বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু ছায়া বা সৌন্দর্যই দেয় না, বরং বায়ু বিশুদ্ধকরণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, অনেক সময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি পরিবেশ রক্ষার একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ, যা মানুষের জীবন ও অস্তিত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যার প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
ফরিদা খানম আরও বলেন, রাজধানীর প্রতিটি নাগরিক যদি বছরে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করেন এবং সেই গাছের সঠিক পরিচর্যার দায়িত্ব নেন, তাহলে শহরের পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশগত সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সবার যৌথ প্রচেষ্টায় বৃক্ষরোপণকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞাপন
আলোচনা সভায় পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, দূষণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচনা পর্ব শেষে অংশগ্রহণকারীরা ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের বিভিন্ন চারা রোপণ করেন।
বিজ্ঞাপন
এ সময় উপস্থিত সবাইকে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, একটি সবুজ ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য।








