Logo

সংলাপের প্রস্তাব হাসিনার, প্রত্যাখ্যান করে ‘এক দফা’ ঘোষণা ছাত্রদের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:১৫
সংলাপের প্রস্তাব হাসিনার, প্রত্যাখ্যান করে ‘এক দফা’ ঘোষণা ছাত্রদের
ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে টানা সহিংসতা, প্রাণহানি ও দমন-পীড়নের মধ্যে আন্দোলনের অবসান ঘটাতে সংলাপের আহ্বান জানান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন সকালে গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ‘গণভবনের দরজা খোলা। আমি আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে বসতে চাই, তাদের কথা শুনতে চাই। আমি কোনো সংঘাত চাই না।’

বিজ্ঞাপন

তবে শেখ হাসিনার সেই আহ্বানে সাড়া দেননি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। একই দিন বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশ থেকে তারা ‘এক দফা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেই একমাত্র দাবিতে শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং সরকারের পতনের আহ্বান জানানো হয়।

সেদিন বিকেল ৫টার দিকে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা এক দফা দাবির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের একমাত্র দাবি হলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এই সরকারের পতন এবং ফ্যাসিবাদের বিলোপ।

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আন্দোলনের লক্ষ্য কোটা সংস্কারের দাবির গণ্ডি ছাড়িয়ে সরাসরি সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। একই সঙ্গে আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা, গুম, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের ঘটনার বিচারও দাবি করেন আন্দোলনের নেতারা।

বিজ্ঞাপন

সেদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশপাশের পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সমাবেশে অংশ নেন। ‘দফা এক, দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’ এবং ‘ন্যায়বিচার চাই, ন্যায়বিচার চাই’—এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সমাবেশ থেকে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৫ দফা কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে কর ও বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ থেকে বিরত থাকা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স না পাঠানোর আহ্বান ছিল।

বিজ্ঞাপন

এদিকে একই দিনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, জনগণের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে থাকবে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও দাবি করেন, আন্দোলন আর কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে।

৩ আগস্ট রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাতেও বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, বগুড়া, সিলেট, কুষ্টিয়া, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

দিনটির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ছিল গণভবনের সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ‘এক দফা’ কর্মসূচি ঘোষণা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওই ঘোষণার মধ্য দিয়েই আন্দোলন নতুন মোড় নেয় এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন ভিন্ন এক পর্যায়ে প্রবেশ করে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD