রাষ্ট্রপতি ও স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল নিয়ে যা জানালেন ইসি সচিব

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। ফলে দুই নির্বাচন নিয়েই এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য এখনো কোনো তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। এ নির্বাচনের ভোটার তালিকা পাঠানোর জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে তালিকা এখনো হাতে না আসায় পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। ভোটার তালিকা পাওয়ার পরই নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে সরকার এখনো নির্বাচন কমিশনকে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়নি। এ কারণে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটার হওয়ার শেষ সময়সীমা ৩১ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় ওই সময়সীমা বহাল থাকবে নাকি পরিবর্তন হবে—সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, একটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর ভোট গ্রহণ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগে। এছাড়া ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, মুদ্রণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতিতেও আরও প্রায় দেড় মাস সময় প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে একটি নির্বাচন আয়োজন করতে প্রায় তিন মাসের প্রস্তুতি দরকার হয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা পাওয়া যায়নি, তাই এ মুহূর্তে সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার বিষয়েও সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন ইসি সচিব। তিনি জানান, আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিরীক্ষিত (অডিট) আর্থিক প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। তবে চলতি বছর ৩১ জুলাই শুক্রবার হওয়ায় সময় বাড়িয়ে ২ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯টি। এর মধ্যে একটি দলের (আওয়ামী লীগ) নিবন্ধন স্থগিত থাকায় কার্যকরভাবে ৫৮টি দলের কাছ থেকে হিসাব চাওয়া হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতসহ মোট ৩৮টি রাজনৈতিক দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এছাড়া ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। বাকি ৮টি দল এখনো কোনো ধরনের প্রতিবেদন বা আবেদন জমা দেয়নি।
ইসি সচিব বলেন, যেসব দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জবাব দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী নোটিশ জারি করা হবে এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








