চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে ইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাকে ঘিরে জামায়াতের উত্থাপিত উদ্বেগও গুরুত্ব পেতে পারে।
জামায়াতের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও গণমাধ্যম বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দীন সরকার এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে মো. সামসুল আলমকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই নিয়োগ নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিজ্ঞাপন
দলটির অভিযোগ, ৬৭ বছর বয়সী মো. সামসুল আলম অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। অবসরে যাওয়ার পরও তিনি একটি নির্দিষ্ট কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দাবি করে জামায়াত। তাদের মতে, এমন একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
জামায়াত আরও বলেছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রশাসনিক দায়িত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই এই পদে থাকা কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক থাকা উচিত নয়। এ কারণেই দলটি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগটি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে নির্বাচন পরিচালনার পরিবেশ, কমিশনের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তবে বৈঠক শেষে উভয় পক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত বা আলোচনা তুলে ধরা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন ও জামায়াত—উভয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পর বৈঠকের ফলাফল আরও স্পষ্ট হবে।








