মেয়েকে মানসিক রোগী দাবি করে ক্ষমা চাইলেন জামায়াত এমপি

মাদরাসায় ঢুকে বিরোধে জড়ানোয় এলাকাবাসী বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর পর নিজের মেয়েকে মানসিক রোগী দাবি করেছেন যশোর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গোলাম রসুল। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে এসে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সবার কাছে ক্ষমা চান।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি এসে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের ইচ্ছার কথাও জানান।
এমপি গোলাম রসুল তার মেয়েকে মানসিক রোগী দাবি করে বলেন, ভারতের হায়দরাবাদ ও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে তার চিকিৎসা করানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য আমি মর্মাহত। এই ভুলের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চাই।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, পুলিশ সংসদ সদস্য ও তার পরিবারকে নিরাপত্তা দিয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী বলেছেন, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নাই।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জানায়, গোলাম রসুলের বাড়ির সামনে আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও মসজিদ আছে। ওই মাদরাসায় যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমপির পরিবারের সঙ্গে মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিরোধ চলছিল। এমপির মেয়ে অনন্যা সোমবার (২৭ জুলাই) মাদরাসার কয়েক শিক্ষার্থীকে ভয়–ভীতি দেখান। এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে পুলিশের মধ্যস্থতায় মীমাংসা হয়।
পরে মঙ্গলবার সকালে গোলাম রসুল ও তার মেয়ে মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রেকসোনা নামে স্থানীয় এক নারীর মাথা ফাটিয়ে দেন অনন্যা। তিনি পরে নাসির উদ্দিন নামে এক অভিভাবকের ওপর চড়াও হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে হয়ে তার বাসভবনে হামলা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সংসদ সদস্য ও তার মেয়ে বাসভবনের মূল ফটক বন্ধ করে নিজেদের অবরুদ্ধ করেন।








