ইসি-সরকারের মতভেদে স্থানীয় ভোট নিয়ে চিন্তিত এনসিপি

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের বক্তব্যে ভিন্নতা প্রকাশ্যে আসার পর কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বিজ্ঞাপন
দলটির নেতারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সরকারের সঙ্গে ইসির সমন্বয় নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এর আগে ইসি সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা জানিয়েছিল। সেই পরিকল্পনায় প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর এবং পরবর্তী ধাপগুলো ১৩ ডিসেম্বর, ৩০ ডিসেম্বর, ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে করার কথা বলা হয়েছিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইসি জানায়, এসব তারিখ ছিল সম্ভাব্য এবং চূড়ান্ত সময়সূচি পরে নির্ধারণ করা হবে। আগামী বছরের ৬ জুনের আগে ইউপি নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে বৈঠকে সংশ্লিষ্টরা একমত হয়েছেন বলেও জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ইউপি নির্বাচনের তারিখ নিয়ে সরকারের সঙ্গে ইসির কোনো আলোচনা হয়নি। বাজেট, প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
এরপর ইসি সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১২ নভেম্বর থেকে ভোট শুরুর পরিকল্পনাটি ছিল প্রাথমিক। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকেও ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এইচএসসি পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব পালন ও অন্যান্য প্রস্তুতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সময়সূচি নির্ধারণের কথা জানিয়েছে ইসি।
এ পরিস্থিতিতে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। কমিশন কতটা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এনসিপির আন্তর্জাতিক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, ইসির ঘোষিত সাত ধাপের প্রাথমিক পরিকল্পনা ভোট আয়োজন নিয়ে ইতিবাচক বার্তা তৈরি করেছিল। কিন্তু সরকার ও কমিশনের মধ্যে আলোচনা না হওয়ার বক্তব্য সামনে আসায় নির্বাচন নিয়ে দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
দলটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ইসি সচিবের মন্তব্য কমিশনের স্বায়ত্তশাসিত অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।
বিজ্ঞাপন
তবে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক সময়সূচি থেকে কমিশন সরে আসেনি। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, আগের তারিখগুলো প্রাক্-প্রস্তুতির ভিত্তিতে করা সম্ভাব্য পরিকল্পনা ছিল। ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দ্রুত চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।
ফলে এখন পর্যন্ত ইউপি নির্বাচনের ভোট শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তবে আগামী বছরের ৬ জুনের আগে নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।








