Logo

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না: জামায়াত আমির

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
বগুড়া
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:৪০
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না: জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, হুমকি-ধমকি কিংবা কোনো ধরনের নাটককে তারা পরোয়া করেন না। জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমেছেন এবং প্রয়োজন হলে জীবন দেওয়ার পরও দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবেন না।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের অংশ হিসেবে বগুড়ার মাটিডালী বিমান মোড়ে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, "আমাদেরকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। গত দুই দিন বহু নাটক করা হয়েছে। আমরা কোনো নাটকের পরোয়া করি না। কথা দিচ্ছি—রাস্তায় নেমেছি জনগণের জন্য, প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না ইনশাআল্লাহ।"

তিনি বলেন, তারা শুধু আহ্বান জানিয়েছিলেন, ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সবাইকে অংশ নিতে। এর পর বগুড়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হওয়ায় তিনি উপস্থিত জনতাকে অভিনন্দন জানান।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, "৭০ ভাগ জনগণ রায় দিলো গণভোটে হ্যাঁ বলে। আপনারাও সেই ভোট চেয়েছেন, আমরাও ভোট চেয়েছি। আমরা আমাদের জায়গায় আছি। আপনারা জায়গা পরিবর্তন করলেন কেন? আপনারা যদি জনগণের সাথে প্রতারণা না করতেন, আজকে আমাদের লং মার্চ করার প্রয়োজন হতো না।"

সরকারের সাত মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সংসদের তিনটি অধিবেশন শেষ হলেও জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত সরকারের পক্ষ থেকে সনদ বাস্তবায়ন করা হয়নি। দুর্নীতি বন্ধ ও এক কোটি মানুষের চাকরির প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, এসবের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির পরিমাণ বেড়েছে বলে তারা মনে করছেন।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, "বলেছিলেন গ্যাস দেবেন, বিদ্যুৎ দিবেন। এখন যিনি মহামান্য প্রেসিডেন্ট, তিনি তখন বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন মাঠে-ময়দানে। তার স্লোগান ছিল গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে। এখন আমাদের স্লোগান হলো গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে। আমরা তো নতুন কোনো স্লোগান দিচ্ছি না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে স্লোগান দিয়েছিলেন, সেটাই আমরা বলছি। আপনারা দিচ্ছেন না বলেই আমাদের লং মার্চ।"

বিজ্ঞাপন

চাকরির অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০ সন্তান জীবন দিয়েছেন বলে তারা মনে করেন। সন্তানদের চাকরির অধিকার ও বৈষম্যহীনতার জন্য প্রয়োজনে আবারও জীবন দেওয়ার কথা জানান তিনি।

কৃষকদের সার ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, নির্ধারিত দামের তুলনায় বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকলেও গ্রাহকদের বেশি বিল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিদ্যুৎমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, "উনি বলে যে, আমাদের দেশে কোনো লোডশেডিং নাই, বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নাই, গ্রামে বিদ্যুতের তার একটু লম্বা, এইজন্য বিদ্যুৎ দেওয়া যায় না। লজ্জা! এ রকম একজন অপদার্থ মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে মন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে।"

বিজ্ঞাপন

আগামী কর্মসূচি প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, এবারের লং মার্চ ঢাকা থেকে রংপুরের দিকে হলেও পরবর্তী লং মার্চ পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে হতে পারে। এ জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আট দফা দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমাদের আট দফা মানা হোক, আমরা এটা চাই। এই আট দফা কোনো দলের নয়, গোষ্ঠীর নয়, ব্যক্তির নয়। এই আট দফা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের। এই আট দফা যদি মানা হয়, এক দফার দরকার নাই। যদি আট দফা মানা না হয়, তাহলে এক দফার জন্য প্রস্তুত থাকো। সেই এক দফার ডাক আমরা দিতে যদি বাধ্য হই, তাহলে ইনশাআল্লাহ একসাথে লড়াই করে জনগণের বিজয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় ছিনিয়ে আনব।"

পথে হাজার হাজার নারীকে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে দেখেছেন উল্লেখ করে তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান জামায়াতের আমির।

বিজ্ঞাপন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে অপ্রতীমের মৃত্যুর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার পিতার জন্মস্থানে দাঁড়িয়ে দাবি করছি, মেহেরবানি করে এই জাতির নিরাপত্তা দিন।"

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, "মেহেরবানি করে বাংলাদেশকে বাঁচতে দিন। আমরা জানি, আপনি পারবেন না। কারণ, সর্বাঙ্গে ব্যথা, আপনি মলম লাগাবেন কোথায়?"

এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়। বিভিন্ন জেলায় পথসভা শেষে লং মার্চের বহর বগুড়ার মাটিডালী এলাকায় পৌঁছায়।

বিজ্ঞাপন

পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD