Logo

দ্বিতীয় লংমার্চে যে দাবিদাওয়া জানাল জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:৩৪
দ্বিতীয় লংমার্চে যে দাবিদাওয়া জানাল জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের দ্বিতীয় লংমার্চে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকা থেকে রংপুরমুখী এই কর্মসূচির বিভিন্ন পথসভা ও সমাবেশে জোটের নেতারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গাজীপুরের একটি সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, তাদের দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে। এর আগে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আট দফা দাবি এক দফায় পরিণত হতে পারে।

শফিকুর রহমান বলেন, “আজকের আট দফা, মনে রাখবেন এটা নয় দফা, দশ দফা হতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে এটা যে কোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে। আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। সরকার দাবি মেনে নিতে ব্যর্থ হলে কোনো কিছুতেই কাজ হবে না।”

নতুন করে যুক্ত হয়েছে দুই দাবি

বিজ্ঞাপন

এর আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রথম লংমার্চে ছয় দফা দাবি জানিয়েছিল ১১ দলীয় জোট। এর মধ্যে ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় লংমার্চে এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি। ফলে জোটের ঘোষিত দাবির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটটিতে।

জোটের অন্যতম দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিভিন্ন সমাবেশে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ দাবিগুলো মেনে না নিলে সরকারকে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পড়তে হবে।

বিজ্ঞাপন

মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সমাবেশে তিনি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার তারেক রহমানের হাতে সুরক্ষিত নয়। তার ভাষ্য, সরকার এমন কিছু আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণের পথ তৈরি করছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে তারেক রহমানকে ঠিক করতে হবে কীভাবে তিনি পদত্যাগ করবেন।”

রংপুরের পথে লংমার্চ

বিজ্ঞাপন

ঢাকা থেকে রওনা হওয়া লংমার্চের গাড়িবহর ভোগরা, গাজীপুর বাইপাস, টাঙ্গাইল ও হাটিকুমরুল হয়ে রংপুরের দিকে এগোয়। পথে বিভিন্ন স্থানে জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সাংবাদিক রমিজ হোসাইন জানান, যাত্রাপথের বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে নেতাদের অভ্যর্থনা জানাতে দেখা গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাজারের বেশি গাড়ি এই কর্মসূচির বহরে রয়েছে।

তিনি বলেন, পথসভা ও সমাবেশগুলোতে জোটের নেতারা নিজেদের দাবির পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছেন। তাদের বক্তব্যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসছে।

বিজ্ঞাপন

তিস্তা ইস্যুতেও জোর

ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট এবং নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল। এবার রংপুরমুখী কর্মসূচিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও সামনে এসেছে।

উদ্বোধনী সমাবেশে শফিকুর রহমান গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং চাঁদাবাজির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। কোনো দলীয় দাবি নিয়ে নামিনি। ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি। গণভোটে হ্যাঁ বলেছে ৭০ ভাগ মানুষ। সরকার আপনাদের গণভোটকে অগ্রাহ্য করে আপনাদের অপমান করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে রাস্তায় নেমেছি।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন বাংলার মাটিতে হবে। এই বিএনপিই করতে বাধ্য হবে। পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে খাবে। আজ আট দফা দাবি দিয়েছি। জনগণের প্রয়োজনে এই আট দফা যে কোনো এক দফায় পরিণত হতে পারে। আমরা দাবি আদায় করে ঘরে ফিরবো।”

যা বলছে বিএনপি

বিজ্ঞাপন

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কর্মসূচি ও বক্তব্যকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবেই দেখছে সরকারি দল বিএনপি। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “তারা তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতেই পারে। সরকারি দল হিসেব আমরা মনে করি সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যথাযথ কাজই করছে।”

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের দাবিগুলো নিয়ে সংসদ ও সংসদের বাইরে সরকারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে এবং সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে।

এর আগে প্রথম লংমার্চের পর সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই কর্মসূচির প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “জনগণকে বিভ্রান্ত করে অরাজকতা তৈরি চেষ্টা হচ্ছে।”

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেছিলেন, “আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না? গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।”

পরবর্তী কর্মসূচি

জোটের ঘোষণামতে, পরবর্তী লংমার্চ ১০ অক্টোবর খুলনায় এবং ২৪ অক্টোবর সিলেটে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোতে লংমার্চ কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে জোট।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে জামায়াত ও সমমনা দলগুলো। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা তা নেননি।

জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর কাছে কমিটিতে সদস্য দেওয়ার জন্য নাম চাওয়া হলেও তারা তা দেয়নি। শফিকুর রহমান তখন কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে ঢাকাসহ চার বিভাগীয় শহরে লংমার্চ ও মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন শফিকুর রহমান।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD