বর্তমান সরকার বিএনপির নয়, শেখ হাসিনার সরকার: অলি আহমেদ

এলডিপির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ হয়ে গেলে বিএনপির কর্মীদের মধ্যে হাহাকার তৈরি হবে। বর্তমান সরকারকে বিএনপির সরকার নয়, বরং শেখ হাসিনার সরকার বলে মন্তব্য করে তিনি তারেক রহমান ও দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন অলি আহমেদ।
১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ।
অলি আহমেদ বলেন, বিএনপির প্রতিটি কর্মীর ঘরে ঘরে আজ কান্নার রোল শুরু হয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্রুশ্চেভকে ঘিরে একটি ঘটনার উদাহরণ দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রুশ্চেভের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলে তার মা ক্ষমতা হারানোর পর পরিবার কীভাবে চলবে—তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, ক্ষমতা চলে গেলে আজকে বিএনপির একই অবস্থা, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে, সন্ত্রাসী বন্ধ হয়ে যাবে, মাস্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। তারেকের যে সরকার এটা বিএনপির সরকার না, এটা হলো হাসিনার সরকার। তারেককেও সাবধান হতে হবে, দেশবাসীকেও সাবধান হতে হবে।
বিজ্ঞাপন
লংমার্চের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে এলডিপি নেতা বলেন, দেশকে সঠিক পথে আনার জন্যই তারা এই কর্মসূচি করছেন। কোনো ক্ষমতার লোভ বা ব্যক্তিগত স্বার্থ তাদের উদ্দেশ্য নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন।
অলি আহমেদ বলেন, নিজের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান হয়ে করতে হবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, সরকারকে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
মামুনুল হক আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও গণসম্পৃক্ত হবে। জনগণের দাবি আদায়ে বিএনপি ব্যর্থ হলে আন্দোলনের চাপে দলটি ভেসে যাবে—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে সরকারের কথিত প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার বিষয় জনগণের সামনে তুলে ধরতেই তারা লংমার্চ করছেন।
অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তার দাবি, সরকার জুলাই সনদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
শনিবার সকাল ৮টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়। এর আগে সকাল ৭টায় উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।








