নির্যাতনের পুরোনো ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে ছাত্রদল নেতা রহিম

রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার সময় হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, রিমান্ডে নির্যাতন ও গুমের শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নয়, বরং তাঁর নিজের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো শারীরিক আঘাতের জটিলতা বহন করার পর বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অতীতে একাধিকবার শারীরিক আঘাতের কারণে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মাথাব্যথা, মেরুদণ্ড ও কোমরে তীব্র ব্যথাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।
গুমের অভিযোগ, ফিরে এসেও কাটেনি শারীরিক জটিলতা
বিজ্ঞাপন
আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার রাজনৈতিক জীবনের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরের। দলীয় সূত্রের দাবি, ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজধানীর একটি স্থান থেকে তিনি নিখোঁজ হন। তাঁকে খুঁজে বের করতে পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, এ পর্যন্ত তিনবার গুমের শিকার হয়েছেন রহিম। নিখোঁজ হওয়ার পর ফিরে আসায় পরিবার স্বস্তি পেলেও তাঁর শারীরিক অবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয় বলে পরিবারের ভাষ্য।
পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময় হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকার সময় রিমান্ডে নির্যাতনের ফলে তাঁর মেরুদণ্ড ও কোমরে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হয়। নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও একাধিক রাজনৈতিক মামলায় কারাবাসসহ নানা প্রতিকূলতার কারণে তা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এতে সময়ের সঙ্গে শারীরিক জটিলতা বেড়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দুই দশকের বেশি সময় বিএনপির রাজনীতিতে
বিজ্ঞাপন
দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা’ হিসেবে পরিচিত আব্দুর রহিম ভূঁইয়া দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। শিক্ষাজীবনে ওয়ার্ড পর্যায়ের রাজনীতি দিয়ে শুরু করে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতৃত্বে উঠে আসেন।
বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
২০১০ সালের একটি রাজনৈতিক মামলায় তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তারে রহিমের ভূমিকা ছিল। দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে তারা জানান।
বিজ্ঞাপন
হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবাসের মতো পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রহিমকে পুরোনো আঘাতজনিত জটিলতা ও বর্তমান শারীরিক সমস্যার কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।








