শাহজালাল বিমানবন্দরে উত্তেজনা, আনসারের দায়িত্বশীল ভূমিকায় নিয়ন্ত্রণ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নির্দেশনা অমান্য করে প্রবেশের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে যাত্রীর স্বজনদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হলে বিমানবাহিনী ও আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনায় তিন আনসার সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-০২ এলাকায় সি-শিফটের নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনের সময় এ ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিমানবন্দরে প্রবাসী ও আনসার সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, একজন যাত্রীর স্বজন নিরাপত্তা নির্দেশনা অমান্য করে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী ও আনসার সদস্যরা তাকে বাধা দেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, ওই ব্যক্তি তার কাঙ্ক্ষিত যাত্রীকে দেখতে পেয়ে আগমনী গেট দিয়ে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় নিরাপত্তা প্রটোকল ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা তাকে বাধা দেন।
পরবর্তীতে নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশনা উপেক্ষা করে পাশ কাটিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি মেঝেতে পড়ে যান। এ ঘটনা দেখে যাত্রীকে নিতে আসা কয়েকজন স্বজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন।
বিমানবাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের ভিডিও ধারণ বন্ধ করার অনুরোধ জানালে তারা উত্তেজিত হয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে আনসার বাহিনী।
বিজ্ঞাপন
একপর্যায়ে উত্তেজিত ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে আনসার সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্যানোপি-০২ এলাকায় অবস্থানরত কয়েকজন যাত্রীর স্বজন সংঘবদ্ধ হয়ে আনসার সদস্যদের ঘিরে ফেলেন।
এ অবস্থায় বিমানবাহিনী, আনসারসহ দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীরা সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত যাত্রীর স্বজনরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।
আনসার বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, আকস্মিক পরিস্থিতির মধ্যেও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যাত্রীসেবা অব্যাহত রাখা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত ভিড়ের মধ্যে সরে যান।
বিজ্ঞাপন
ঘটনায় দায়িত্ব পালনরত পিসি হাবিবুর রহমান, আনসার সদস্য মো. নুরুজ্জামান এবং আনসার সদস্য মো. সাদেকুল সামান্য আহত হন। এ সময় তাদের ইউনিফর্মের কিছু অংশ ছিঁড়ে যায়। তবে আহত হওয়ার পরও তারা দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ছিলেন এবং বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব অব্যাহত রাখেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন কৌশলগত ও জনসেবামূলক স্থাপনায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এসব স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখা তাদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীর সদস্যদের মূল লক্ষ্য হলো আইনানুগ নির্দেশনা অনুসরণ, নিরাপত্তা প্রটোকল বাস্তবায়ন এবং সাধারণ যাত্রী ও জনগণের জন্য নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সংযম, শৃঙ্খলা ও সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখার মাধ্যমে বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।








