Logo

স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়তে চায় জামায়াত, জোটের ভাবনা ভিন্ন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:৩১
স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়তে চায় জামায়াত, জোটের ভাবনা ভিন্ন
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করছে রাজনৈতিক দলগুলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১১-দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে মোকাবিলা করলেও জোটের শরিকদের মধ্যে এখন স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে কৌশলগত মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। জামায়াত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিলেও জোটের কয়েকটি দলের পরিকল্পনা ভিন্ন।

বিজ্ঞাপন

জোটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস বিকল্প নির্বাচনী সমঝোতার পথে এগোতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে জোটের অন্য কয়েকটি দল জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও সমন্বিত কৌশল অনুসরণের পক্ষে।

নির্বাচন কমিশন আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোও সাংগঠনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে তৎপরতা শুরু করেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে দলগুলোর প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। ফলে সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিজেদের অবস্থান পরিমাপের সুযোগ হিসেবেও নির্বাচনটিকে দেখছে দলগুলো। এ কারণে প্রার্থী নির্বাচন ও পারস্পরিক সমঝোতা নিয়ে আগেভাগেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

১১-দলীয় ঐক্যের কয়েকটি দলের নেতাদের যুক্তি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জোটগত সমন্বয় না থাকলে মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কোনো এলাকায় জোটের একাধিক দলের শক্ত অবস্থান থাকলে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার কারণে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে জামায়াতের অবস্থান ভিন্ন। দলটির নেতারা মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতা ও স্থানীয় নেতৃত্ব যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই কেন্দ্রীয়ভাবে বড় ধরনের সমঝোতার পরিবর্তে প্রত্যেক দলের নিজস্ব প্রতীকে বা নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তিতে নির্বাচন করাই বেশি কার্যকর।

বিজ্ঞাপন

সরকার ও নির্বাচন কমিশনসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এদিকে প্রার্থী বাছাইয়ের অভ্যন্তরীণ জটিলতা এবং ভোটের কৌশল চূড়ান্ত করতে নীতিনির্ধারকদের ধীরগতির কারণে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জামায়াতের নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংসদ নির্বাচনের মতো আসনভিত্তিক নয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক পদে কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতা করা বাস্তবসম্মত নয়। বরং এ নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ তৈরি করে। তাই প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গত ২০ জুলাই বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে সমঝোতা করতেই কয়েক মাস সময় লেগেছিল। স্থানীয় সরকারের বিপুলসংখ্যক পদে একই ধরনের সমঝোতা করা বাস্তবসম্মত নয়। অতীতেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার নজির নেই। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো কোনো এলাকায় সমঝোতার প্রয়োজন হলে কেন্দ্র থেকে এতে বাধা দেওয়া হবে না।

জামায়াতকে বাইরে রেখে কয়েকটি দলের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার আলোচনা চলছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এমন কোনো আলোচনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি তৈরি হলে তখন বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD