এনসিপি হামলা ইস্যুতে ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক

হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। পরে তিনি পোস্টটি মুছে ফেললেও বিষয়টি ঘিরে বিতর্ক থামেনি।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরদিন হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গেলে দলটির নেতা-কর্মীরা পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। এরপর সিলেটেও এনসিপির নেতা-কর্মীদের বহনকারী গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে।
এসব ঘটনার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের দায়ী করে আসছে এনসিপি। হামলার ঘটনাগুলো মূলধারার গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের হামলার ঘটনাগুলো তার কাছে ‘সুপরিকল্পিত’ বলে মনে হয়েছে। তার ভাষ্য ছিল, এসব ঘটনার উদ্দেশ্য হতে পারে জুলাই মাসে জামায়াতকে আলোচনার বাইরে রাখা এবং এনসিপির প্রতি জনসমর্থন সৃষ্টি করা।
বিজ্ঞাপন

জাহিদুলের এই বক্তব্য প্রকাশের পর জামায়াত-সমর্থিত কয়েকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ধরনের মতামত তুলে ধরা হয়। কিছু পোস্টে হামলার ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে ইঙ্গিত করা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও বিতর্কের সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে, এনসিপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অনেকেই এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা দাবি করেন, হামলার শিকারদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের পরিবর্তে ঘটনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন নিজের ফেসবুক পোস্টে জাহিদুল ইসলামের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত একটি রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে অন্যের ওপর সন্দেহ চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হলে কিছু মহলে অস্বস্তি তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মনিরা শারমিনের পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পোস্টটিতে হাজারো প্রতিক্রিয়া ও বিপুল সংখ্যক মন্তব্য জমা পড়ে। এনসিপির আরও বেশ কয়েকজন নেতা ও সমর্থকও পৃথক পোস্টে জাহিদুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে রাতেই নিজের ফেসবুক পোস্টটি সরিয়ে নেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তবে পোস্টটি মুছে ফেলার পরও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য, সমালোচনা ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান ও বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।








