Logo

এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচনে সুযোগ চেয়ে ইসিকে জামায়াতের চিঠি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৩০
এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচনে সুযোগ চেয়ে ইসিকে জামায়াতের চিঠি
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া মো. সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিল এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনবিষয়ক খসড়া আচরণবিধিতে দলের দেওয়া প্রস্তাবগুলো বিবেচনার দাবি জানিয়েছে দলটি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এসব দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

চিঠিতে দলটি উল্লেখ করে, সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের অন্যতম সাংবিধানিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে কমিশনের নিরপেক্ষতা, জনআস্থা এবং সকল নাগরিকের সমঅধিকারের নীতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জামায়াতের দাবি, নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করে একটি প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে দেশের ৩০ হাজারেরও বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ শিক্ষক ও কর্মচারী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাংবিধানিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।

বিজ্ঞাপন

দলটির মতে, এ ধরনের বিধান সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমতা ও বৈষম্যহীনতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করে সংশোধন অথবা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে যোগ্য নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকে।

চিঠিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে মো. সামসুল আলমের সাম্প্রতিক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। জামায়াতের ভাষ্য, বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অতীত সম্পৃক্ততার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হতে পারে বলে দলটির দাবি। এ কারণে ওই নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রণীত খসড়া আচরণবিধিমালা নিয়ে গত ৩০ জুন জমা দেওয়া জামায়াতের মতামত ও সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনেরও অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চিঠিতে জামায়াতে ইসলামী তিনটি নির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরে। এগুলো হলো— এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্যতা-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিধান সংবিধান ও আইনের আলোকে পুনর্বিবেচনা করে সংশোধন বা প্রত্যাহার, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া মো. সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিল এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনবিষয়ক খসড়া আচরণবিধিতে দলের দেওয়া প্রস্তাবগুলো অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই নির্বাচন কমিশনের ১২তম কমিশন সভা শেষে জানানো হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না—এমন প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণখেলাপি, ঋণের জামিনদার এবং ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকা ব্যক্তিদেরও প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদ—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী আইন পর্যালোচনা করে সংশোধনী প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব প্রস্তাব শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে নির্বাচন কমিশনার আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও তারা ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন না। বয়স পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় তাদের নাম যুক্ত হয়। এছাড়া ভোটার তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরও কমানো সম্ভব কি না, সে বিষয়েও কমিশন পর্যালোচনা করছে। এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি কিংবা প্রাথমিক পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করা যায় কি না, তা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD