Logo

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যয়ে শীর্ষে জামায়াত, শূন্য ব্যয় ২৮ দলের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ জুলাই, ২০২৬, ২০:৩৮
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যয়ে শীর্ষে জামায়াত, শূন্য ব্যয় ২৮ দলের
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ ব্যয় করেছে জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে কোনো দলীয় খরচ না দেখিয়েই নির্বাচন শেষ করেছে ২৮টি রাজনৈতিক দল।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ব্যয় দেখিয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৪৯ লাখ লাখ টাকা। আর এই নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল খরচ দেখিয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি দল অংশগ্রহণ করে। নির্বাচন কমিশন ২৬ জুলাই ৪৯টি দলের নির্বাচনি ব্যয়ের তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। তবে দলগুলো কোন খাতে কত টাকা খরচ করেছে তার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। শুধু দলভিত্তিক মোট ব্যয়ের তথ্যই দেওয়া হয়েছে।

কোন দলের কত ব্যয়

বিজ্ঞাপন

গত সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ২৮৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলটি যে হিসাব দিয়েছে, তাতে দেখা যায়, তারা খরচ করেছে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৮৯ হাজার ১৩৭ টাকা।

২২৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। তারা দলীয় ব্যয় দেখিয়েছে ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭২ টাকা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এনসিপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়ে ৩২ জন প্রার্থী দিয়েছিল। তারা দলীয় খরচ দেখিয়েছে ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ টাকা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩ জন প্রার্থী দিয়ে খরচ দেখিয়েছে ৩৩ লাখ ৬৫ হাজার ৯৭১ টাকা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৬৫ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলীয়ভাবে তারা খরচ করেছে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৩ টাকা।

জাতীয় পার্টি (জেপি) ১০ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ১৮ হাজার ৮৭৫ টাকা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৬৫ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ২০ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৩ টাকা। গণতন্ত্রী পার্টি একজন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ১ লাখ টাকা। জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ১৯২ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ২৬ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৩৯ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ১৯ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ১ লাখ ৪০ হাজার ১৫০ টাকা।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ২৬ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ১ লাখ টাকা। খেলাফত মজলিসের একটি অংশ ৩৪ জন এবং আরেক অংশ ২১ জন প্রার্থী দিয়েছিল। ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ৬ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ৩ হাজার টাকা। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) ১৯ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ২ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ টাকা। বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) ১১ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ২ লাখ টাকা। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩০ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৭১০ টাকা। গণঅধিকার পরিষদ ৯০ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ টাকা। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ২৯ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ১ লাখ ৯ হাজার টাকা। আমজনতার দল ১৫ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ৪২ হাজার ৫২০ টাকা। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২৮ জন প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির ব্যয় ২০ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে শূন্য ব্যয় দেখানো আটাশটি দলের তালিকায় রয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বারো জন প্রার্থী দিয়ে, জাকের পার্টি সাত জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আট জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ বারো জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি তেইশ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ চার জন, গণফোরাম ঊনবিংশ জন, গণফ্রন্ট পাঁচ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি একজন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি পাঁচ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি বারো জন, ইসলামী ঐক্যজোট বারো জন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি একজন, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সাত জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট আট জন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন আট জন এবং বাংলাদেশ কংগ্রেস আঠারো জন প্রার্থী দিয়েছিল।

এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ বিয়াল্লিশ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি ঊনবিংশ জন, নাগরিক ঐক্য এগারো জন, গণসংহতি আন্দোলন সতেরো জন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি দুই জন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি আট জন, বাংলাদেশ লেবার পার্টি পনেরো জন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি বারো জন, জনতার দল ঊনবিংশ জন এবং বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি একজন প্রার্থী দিয়েছিল। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিও শূন্য হিসাব দিয়েছে। যদিও নির্ধারিত সময়ের পর আয়ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ায় তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এসব দল নির্বাচন কমিশনে দেওয়া জমা হিসাবে দলীয় নির্বাচনি ব্যয় শূন্য দেখিয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD