Logo

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্তে বাড়তি কৌশল বিএনপির

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ জুলাই, ২০২৬, ১৯:৫৩
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্তে বাড়তি কৌশল বিএনপির
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, সাংগঠনিক ভারসাম্য এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে আগের মতো কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটতে চায় না দলটি।

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, বিএনপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে শুধু সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখছে না। বরং আগামী দিনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এবং সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই নির্বাচনকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ কারণে প্রার্থী নির্ধারণে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করতে রাজি নয় দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এমন একটি সিদ্ধান্ত, যার প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্র পরিচালনায় পড়ে। তাই এবার ভুলের কোনো সুযোগ রাখতে চায় না দল।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, সম্ভাব্য কয়েকটি নাম নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চললেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি সীমিত কয়েকজন নেতার মধ্যেই রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে মতামত নিচ্ছেন। আগামী শনিবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গ আলোচনায় আসতে পারে। তবে ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আব্দুল মঈন খানের নাম আলোচনায় রয়েছে।

সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্রের দাবি, আলোচনায় থাকা কোনো নামই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত নয়। তবে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে মির্জা ফখরুলের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে, মির্জা ফখরুলের পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি পুরোপুরি দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরীর মতে, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে রাষ্ট্রপতি এমন একজন হওয়া উচিত, যিনি কেবল দলীয় আনুগত্য নয়, সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় সংকট মোকাবিলার সক্ষমতার জন্যও গ্রহণযোগ্য।

দলীয় সূত্রগুলোর মতে, বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি করা হলে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে দলের মহাসচিব রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আসতে পারে। আবার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকেই স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতি করা হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার পদেও নতুন নিয়োগ প্রয়োজন হবে। এসব বাস্তবতা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে দলটি।

এ কারণে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—সাংবিধানিক বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ব্যক্তিগত সততা, বিতর্কমুক্ত ভাবমূর্তি, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা এবং জাতীয় সংকটে ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা।

বিজ্ঞাপন

দলের একজন যুগ্ম মহাসচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি এমন একজন হওয়া প্রয়োজন, যিনি দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবেন।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টিকে। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র বা সরকারের জন্য জটিলতা তৈরি করতে পারেন—এমন কাউকে রাষ্ট্রপতি করার ঝুঁকি নিতে চায় না বিএনপি। যোগ্যতার পাশাপাশি রাজনৈতিক আস্থা ও দায়িত্বশীলতাও প্রার্থী নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই নেওয়া হবে। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও বলেছেন, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সময়মতো রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন মহলে নানা জল্পনা থাকলেও নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—সেই উত্তর জানতে হলে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্ত এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা করতে হবে।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইনমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগস্টের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD