Logo

রাষ্ট্রপতি দৌড়ে একাধিক নাম, শনিবার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে বিএনপি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুলাই, ২০২৬, ১৫:১০
রাষ্ট্রপতি দৌড়ে একাধিক নাম, শনিবার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্নই এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। এ পরিস্থিতিতে শনিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক আহ্বান করেছে। দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার ইঙ্গিত, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনই প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে এবং এদিনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং সদস্যদের ইতোমধ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাননি বলেও জানান তিনি।

গত শুক্রবার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এই পরিবর্তনের পর থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, শনিবারের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। তাদের একজন বলেন, রাষ্ট্র, সরকার, দল এবং জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দলীয় সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং কর্মজীবনের বিভিন্ন দিকের তথ্য ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছেছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে যোগ্য ব্যক্তিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে থাকে। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য ব্যক্তিদের তালিকায় আলোচনায় রয়েছে স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সেলিমা রহমান, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নাম।

এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, মানবাধিকারকর্মী ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নামও আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাজনীতি বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুলের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য মেয়াদকাল, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা, শিক্ষাগত ও কূটনৈতিক যোগ্যতা, সর্বজনগ্রহণযোগ্যতা, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা—সব দিক সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। তার মতে, আবেগ নয়, যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক হবে।

রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান মোহনও মনে করেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে নির্বাচন করা উচিত, যার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই, যিনি রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ এবং ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণযোগ্য। তার মতে, দলীয়ভাবে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অভিজ্ঞ সিনিয়র নেতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD