Logo

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে এলো জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের গোপন তথ্য

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৬:৪৬
৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে এলো জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের গোপন তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

আজ থেকে ৪৫ বছর আগে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই ঘটনার তদন্তে একটি কমিশন গঠন করা হলেও দীর্ঘদিন প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। সম্প্রতি ওই তদন্ত প্রতিবেদনের একটি মুদ্রিত অনুলিপি একটি গণমাধ্যমের হাতে। কী ছিল ৪৫ বছর আগের সেই প্রতিবেদনে তার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে গণমাধ্যমটি।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু ইউসুফ মো. মাহফুজুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে কমিশন কঠোর সমালোচনা করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ১৯৮১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক সেনা কর্মকর্তা মেজর মুজিবুর রহমান এবং রাষ্ট্রপতির এইড-ডি-ক্যাম্প (এডিসি) ক্যাপ্টেন মাজহারুল হকের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। মেজর মুজিবুর রহমানকেও ১৯৮১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ফাঁসি দেয় সামরিক আদালত।

৪৫ বছর আগের সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দায়িত্বে থাকা একজন বা একাধিক ব্যক্তির কারণে নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ঘটনার রাতে সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমানের কক্ষের পূর্ব পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজুর রহমান। কমিশনকে দেওয়া বক্তব্যে ক্যাপ্টেন মাজহারুল হক জানান, গুলিবর্ষণ পুরোপুরি থেমে যাওয়ার পর তিনি রুম থেকে বের হন। এরপর তিনি ৪ নম্বর রুমের দিকে অগ্রসর হন, এই রুমেই ছিলেন জিয়াউর রহমান। এসময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজুরকে বারান্দার অন্য পাশ থেকে আসতে দেখেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজুর রহমান ক্যাপ্টেন মাজহারুল হককে জানান যে, সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। তারা ৪ নম্বর রুমের সামনে রাষ্ট্রপতিকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখেন। তার দেহ বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল এবং খুব কাছ থেকে গুলি ছোড়ার কারণে তার মুখের একাংশ বিকৃত হয়ে গিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

ক্যাপ্টেন মাজহারুল জানান, তারা রাষ্ট্রপতির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল এএফএম মইনুল আহসান এবং প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন আশরাফুল হাফিজ খানের মরদেহও দেখতে পান। আহসানের মরদেহ করিডোরে এবং হাফিজ খানের মরদেহ সার্কিট হাউসের প্রথম তলার উত্তর বারান্দার পূর্ব দিকে পড়ে ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগ রয়েছে— অভিযানের সময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মইনুল আহসান এবং ক্যাপ্টেন হাফিজ তাদের ঘরের দরজা খুলে দিয়েছিলেন। তার ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা হামলাকারীদের একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজকে লক্ষ্য করে গুলিও চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য, অন্য দুই কর্মকর্তা ঘটনাস্থলেই নিহত হলেও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ কীভাবে শরীরে সামান্য আঁচড়ও না লেগে বেঁচে গেলেন, তা চিরকালই এক রহস্য হয়ে থেকে যাবে।’

কমিশন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজের ঘরের ভেতরের দেয়ালে গুলির চিহ্নগুলো পরীক্ষা করে, যেগুলো সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন যে দরজার বাইরে থেকে ছোড়া গুলিতে সেগুলো হয়েছে। কমিশন বলেছে, ওই ঘরটি পরীক্ষা করার সময় আমরা পুলিশের দেয়া কিছু বিশেষজ্ঞ মতামত পেয়েছি। এটা খুবই অসম্ভব বলে মনে হয়েছে যে ওই গুলির চিহ্নগুলো বাইরে থেকে হতে পারে। চিহ্নগুলোর অবস্থান ও ধরন এমন যে, পরবর্তীতে সেগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছিল—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে পরবর্তীতে উঠে আসে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ ও ক্যাপ্টেন মাজহার কেউই তাদের ঘর থেকে বের হননি যতক্ষণ না তাদের দরজায় টোকা দেওয়া হয় এবং হত্যাকারীরা চলে যাওয়ার অনেক পরে একজন ওয়্যারলেস অপারেটর তাদের ডেকে বাইরে আনেন।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, কমিশন দেখতে পেয়েছে এই দুই সেনা কর্মকর্তা নিজেদের কক্ষের ভেতরে টেলিফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে আসার কোনো চেষ্টাই করেননি। প্রয়াত রাষ্ট্রপতির প্রতি তাদের অনুরাগ ও দায়িত্বের কথা বিবেচনা করলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই আচরণ তাদের সদিচ্ছা ও আন্তরিক আচরণের সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।

ক্যাপ্টেন মাজহারের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, তার কক্ষের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কক্ষের একটি সংযোগ দরজা ছিল, কিন্তু গোলাগুলির সময় তিনি সেটি খোলার চেষ্টা করেননি। মাজহার তাদের জানান যে, তিনি রাষ্ট্রপতির কক্ষে টেলিফোন করার চেষ্টা করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কক্ষ দুটির মাঝে একটি সংযোগ দরজা রয়েছে। ঘটনার সময় ওই দরজা দিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছানো, অথবা অন্তত সেই চেষ্টা করাই ছিল এডিসির জন্য সবচেয়ে সহজ কাজ। হত্যাকারীরা যখন রাষ্ট্রপতির কক্ষের দরজায় আঘাত করছিল, তখন তার পালানোর সম্ভাব্য পথগুলোর একটি ছিল এডিসির কক্ষ। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, সংযোগ দরজাটি অন্য পাশ থেকে বন্ধ থাকলেও এডিসি তাতে জোরে আঘাত করে আসন্ন বিপদের মুখে থাকা রাষ্ট্রপতিকে তার কক্ষে নিয়ে আসার তাগিদ দিতেন। এতে শেষ পর্যন্ত নিস্তার না পেলেও রাষ্ট্রপতি অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও একঝাঁক গুলি থেকে রক্ষা পেতে পারতেন। ওই দরজা খোলা থাকলে কী ঘটত, সেটা আমরা জানি না। এডিসির কাছ থেকে শুনে আমরা বিস্মিত হয়েছি যে, তার কক্ষ ও রাষ্ট্রপতির কক্ষের মধ্যে একটি সংযোগ দরজা থাকার বিষয়টি নাকি তিনি জানতেনই না।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তারা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজকে সন্দেহ করার আরও কয়েকটি কারণও উল্লেখ করেছেন। প্রমাণে দেখা গেছে যে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ বেশ অস্বাভাবিকভাবে সকালে এনডিসি নাসিরউদ্দিনকে (সার্কিট হাউসের দায়িত্বে থাকা) সার্কিট হাউসের কোন কক্ষে কে থাকছেন, তার তালিকার টাইপ করা কপি সরবরাহ করতে বলেন। কক্ষ বণ্টন এনডিসি দ্বারা করা হয় এবং কক্ষ বিন্যাস দেখানোর জন্য একটি তালিকা কেবল বোর্ডে টাঙিয়ে রাখা হয়, এবং এর কোনো অনুলিপি কাউকে সরবরাহ করার জন্য তিনি বাধ্য নন। আমাদের জানানো হয়েছে যে, এর আগেও যখন রাষ্ট্রপতি সার্কিট হাউসে থেকেছেন, তখন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ কখনও কক্ষ বরাদ্দের তালিকা চাননি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তদন্তে আরও অনেক তথ্য খুঁজে পেয়েছে কমিশন। হাউস গার্ডের দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ তার সাক্ষ্যে বলেন, রাত ১০টায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ তাকে রাষ্ট্রপতির কক্ষের সামনে নিয়োজিত দুই হাউস গার্ডকে সরিয়ে নিতে বলেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ওই দুই প্রহরীর কারণে রাষ্ট্রপতির অসুবিধা হবে।’ ফলে রাষ্ট্রপতির কক্ষের বাইরে কোনো প্রহরী ছিল না।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতির মরদেহ সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রেও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজের প্রচেষ্টার অভাব ছিল বলে মনে করেছে কমিশন। এ কারণেও তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

হত্যাকাণ্ডের কিছুক্ষণ পর বিদ্রোহী সেনাদের একটি দল জিয়াউর রহমানের মরদেহ নিয়ে যায় এবং অজ্ঞাত স্থানে দাফন করে। পরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় সেই স্থানটির সন্ধান পাওয়া যায়। নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের মরদেহ ঘটনাস্থলে কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল।

প্রতিবেদনের বর্ণনায় বলা হয়, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে সেনা সদর দপ্তরে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যাতে রাষ্ট্রপতির মরদেহ ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়।

তিনি খুব ভালো করেই জানতেন যে রাষ্ট্রপতির মরদেহ ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কারও উপস্থিতির প্রয়োজন ছিল না এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর স্থানীয় বেস কমান্ডারের কাছ থেকে একটি হেলিকপ্টার চাইতে তার কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা না।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মাহফুজ সার্কিট হাউস থেকে ডিভিশনাল কমিশনারের বাসভবনে রাষ্ট্রপতির রোভার সেট (ওয়্যারলেস) বহন করে নিয়ে যান এবং ৩০ মে সকাল ১১টার পর মেজর লাজদানি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ ও অন্যদের ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেটটি এবং ওয়্যারলেস অপারেটর নায়েক আবুল বাশার সেখানেই ছিলেন। এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ সেই সময়ে সেনা সদরদপ্তর থেকে কোনো তথ্য জানানোর বা কোনো নির্দেশনা চাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অথচ, তার কাছে সব উপায়ই ছিল।

মেজর রওশন ইয়াজদানি ভূঁইয়া বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের অন্যতম এবং ৬৫তম পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর ছিলেন। সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিল্ড ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (এফআইইউ) স্থানীয় কর্মকর্তা-ইন-চার্জ মেজর মুজিবুর রহমান দিনের বেলায় সার্কিট হাউস পরিদর্শন করেন এবং নিচতলায় রাষ্ট্রপতির সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে কমিশন বলে, সেখানে তার (মেজর মুজিবুর রহমান) থাকার কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছিল না। আমরা এটা মানতে রাজি নই যে, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এবং স্থানীয় জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি)-এর মধ্যকার সম্পর্কের প্রেক্ষাপট, সেইসঙ্গে মেজর জেনারেল মনজুরের কমান্ডাধীন ডিজিএফআই (ডিরেক্টরেট জেনারেল ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স) এবং স্থানীয় এফআইইউ-এর মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজ ও ক্যাপ্টেন মাজহার অবগত ছিলেন না।

তারা এই বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করছিলেন যে, জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বিদ্রোহী সরকার গঠনকারী ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মুহাম্মদ আবুল মনজুর প্রয়াত রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করছিলেন।

কমিশন জানায়, পরিস্থিতি অনুযায়ী আশা করা হয়েছিল যে, সার্কিট হাউসে মেজর মুজিবের অনাকাঙ্ক্ষিত সফরটি কোনো গোপন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রেকি করার জন্য ছিল—এ বিষয়ে একটি তীক্ষ্ণ সন্দেহ তৈরি হবে। এটা বেশ অদ্ভুত যে, তাদের কেউই সার্কিট হাউসে মেজর মুজিবের এই সফরকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি; এমনকি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও না।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমানকে হত্যার এক সপ্তাহের মাথায়; অর্থাৎ ৬ জুন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার এ হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠন করেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি রুহুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সদস্য ছিলেন বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ আফজাল (যিনি পরে প্রধান বিচারপতি হন) এবং খুলনার জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ সিরাজউদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুন

তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ মোট ৬২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয় সেই তদন্ত কমিশন।

তদন্তের সারসংক্ষেপে কমিশন উল্লেখ করে, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তাব্যবস্থায় গুরুতর দুর্বলতা ছিল। সার্কিট হাউসে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও নিরাপত্তা সদস্য থাকা সত্ত্বেও হামলাকারীরা প্রায় কোনো বাধার মুখে না পড়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়। কমিশনের ভাষ্য, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি; তারা যেন অনায়াসেই এসে অভিযান সম্পন্ন করে চলে যেতে পেরেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো প্রতিরোধই গড়ে তোলা হয়নি; তাদের জন্য যেন পুরো ঘটনাটি ছিল ‘ভিনি, ভিডি, ভিচি’।

কথাটি জুলিয়াস সিজারের বিখ্যাত উক্তি। যার অর্থ, ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম।’

তথ্য সূত্র: ডেইলি স্টার

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD