Logo

জনস্বাস্থ্যর আনোয়ারের সম্পদের খোঁজে দুদক

profile picture
বিশেষ প্রতিবেদক
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২:৪৭
জনস্বাস্থ্যর আনোয়ারের সম্পদের খোঁজে দুদক
মো. আনোয়ার হোসেন সিকদার।

বিজ্ঞাপন

বেতন সরকারি, সম্পদের হিসাব বেসরকারি গতিতে এমনই এক বৈপরীত্যের খতিয়ান এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এস্টিমেটর মো. আনোয়ার হোসেন সিকদারকে ঘিরে। দশম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বেতন ৩৫ হাজার টাকার কিছু বেশি।

অথচ রাজধানীতে কোটি টাকার অ্যাপার্টমেন্ট, পরিবারের নামে আরও সম্পদের তথ্য এবং স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রাক্কলন, ঠিকাদারি ও বিল-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠেছে এই সম্পদের উৎস কি ঘুষ না স্ত্রীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আয়। এ ছাড়াও প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনে পরিবারের সম্পদেও পাহাড় গড়েছেন এমন অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, প্রকল্প পরিচালক বদলেছে, দপ্তরে রদবদল হয়েছে; কিন্তু আনোয়ার হোসেনের প্রভাববলয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি দায়িত্বে থাকার কারণে প্রকল্পের প্যাকেজ, প্রাক্কলন, দরপত্র ও কারিগরি প্রক্রিয়ায় তার একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন তার সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সময়, অর্থ ও মালিকানার যোগসূত্র। কোন সময়ে কোন সম্পদ কেনা হয়েছে, তখন তার বৈধ আয় কত ছিল, অর্থের উৎস কী এবং একই সময়ে তিনি প্রকল্পের কোন কোন প্যাকেজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই হিসাব মিললেই অভিযোগের আর্থিক দিকটি স্পষ্ট হবে।

বিজ্ঞাপন

আনোয়ার হোসেনের মূল পদ সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। সরকারি চাকরিতে দশম গ্রেডের বেতন ৩৫ হাজার টাকার কিছু বেশি। কিন্তু রাজধানীতে তার পরিবারের নামে থাকা সম্পদের তথ্য সামনে আসায় প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। মোহাম্মদপুরের পিসিকালচার হাউজিংয়ের ‘খ’ ব্লকের ১ নম্বর সড়কের ৪০ নম্বর বাড়িতে একটি অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এই এলাকাটিতে প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের মূল্য প্রায় ৭ হাজার টাকা ধরে ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য এক কোটি টাকার বেশি। এর সঙ্গে গ্যারেজের মূল্য যুক্ত হলে অঙ্ক আরও বাড়তে পারে।

দুদক সূত্র বলছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান করেছে বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল তার জবানবন্দি নেওয়ার জন্য দুদক চিঠি ইস্যু করে। পরে অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনে জমা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান। ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবেদন কমিশনে জমা হয়েছে; এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতিও চলছে। তবে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মামলা দায়েরের করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার নামে কোনো সম্পদ নাই, সব স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের মাঝে। তাই আপনার যা ইচ্ছে তাই লিখেন। আমার বিরুদ্ধে লিখে কিছু করতে পারবেন না।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD