গণপূর্তের শীর্ষ চেয়ার পেতে মরিয়া প্রকৌশলী খায়ের

বাজছে অবসরের ঘণ্টা, চাকরির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক মাস বাকি। অথচ বিদায়ের প্রস্তুতি নেওয়ার বদলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সবচেয়ে কাক্সিক্ষত চেয়ার প্রধান প্রকৌশলীর পদটি বাগিয়ে নিতে শেষ মুহূর্তে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের। এমন অভিযোগই এখন ঘুরছে অধিদপ্তরের ভেতরে ও বাইরে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে সরিয়ে নিজে ওই পদে বসতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ, তদবির ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, নিজের পক্ষে অনুকূল পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মীকে ম্যানেজ করতে জোর তদবির করেছেন।
ওই সব গণমাধ্যমকর্মীর ও পত্রিকা অফিসে ইমামুল হক নামের এক ব্যাক্তি আবুল খায়েরের পক্ষ হয়ে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিউজ করার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমেইলে নিউজ বিভিন্ন ধরনের ছবি তথ্য ও নথি পাঠাচ্ছেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে নানা অফার দিচ্ছেন। ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেন।
অনেকই সেই সংবাদ প্রকাশ করে সামনে এনে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর অবস্থান দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। পদটি পেতে প্রভাবশালী মহলের সমর্থন আদায়েও দৌড়ঝাঁপ চলছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এমনকি এ তৎপরতায় অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয় সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যলয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এক ব্যাক্তি।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পদ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকৌশল প্রশাসনের অন্যতম শীর্ষ পদ। বড় অবকাঠামো প্রকল্প, সরকারি ভবন নির্মাণ, উন্নয়নকাজ, টেন্ডার, ঠিকাদারি কার্যক্রম এবং বিপুল সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে এই পদ সরাসরি যুক্ত। ফলে পদটি ঘিরে প্রশাসনিক ও প্রভাবশালী মহলের আগ্রহ থাকা নতুন কিছু নয়। কিন্তু অবসরের ঠিক এক মাস আগে এসে কোনো কর্মকর্তার এ পদ পাওয়ার জন্য ব্যাপক তৎপরতা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে।
সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টি শুধু পদমর্যাদার নয়। শীর্ষ পদে বসার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কর্তৃত্ব এবং প্রশাসনিক বলয় শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে আবুল খায়েরের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি পদটির জন্য বিবেচিত হওয়ার যোগ্য। কিন্তু সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো নিয়োগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো তদবির বা প্রভাব বিস্তারের প্রয়োজন কেন হবে?
আবুল খায়েরের তৎপরতার সঙ্গে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আনার বিষয়টিও জড়িয়ে আছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
বিজ্ঞাপন
তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ ও অভিযোগগুলোকে প্রশাসনিক পর্যায়ে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাঁর অবস্থান দুর্বল করে প্রধান প্রকৌশলীর পদটি নিজেদের অনুকূলে আনার চেষ্টা থাকতে পারে।
প্রধান প্রকৌশলীর পদে বসতে আবুল খায়ের প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তাদের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন পর্যায়ে তার পক্ষে সুপারিশ ও তদবির করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। শুধু যোগাযোগ ও তদবির নয়, প্রধান প্রকৌশলীর পদটি পাওয়ার জন্য অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ ও প্রভাব বিস্তারের জন্য অর্থ ব্যয়ের চেষ্টা চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী বলেন, একজন কর্মকর্তার অবসর জীবনের ঠিক আগে শীর্ষ পদে বসার চেষ্টা বেআইনি। যোগ্যতা ও বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা পদটির জন্য বিবেচিত হতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে তখনই, যখন অভিযোগ আসে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, তদবির কিংবা প্রভাব খাটিয়ে পদটি পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধান প্রকৌশলীর মতো পদে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ব্যক্তির প্রভাব নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
গণপূর্তের একটি অংশের ধারণা, আবুল খায়েরের বর্তমান তৎপরতা নিছক পদোন্নতি বা পদায়নের আকাক্সক্ষা নয়। এর পেছনে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সমীকরণ ও প্রভাববলয় কাজ করছে। তাই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে অবসরের মাত্র এক মাস আগে প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার পাওয়ার এই আগ্রহ কি ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের শেষ সাফল্য হিসেবে পদটি পাওয়ার আকাক্সক্ষা, নাকি এর সঙ্গে রয়েছে অন্য কোনো হিসাব?
আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।








