Logo

গণপূর্তের কালো বিড়াল প্রকৌশলী আবুল খায়ের

profile picture
বশির হোসেন খান
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬
গণপূর্তের কালো বিড়াল প্রকৌশলী আবুল খায়ের
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল খায়ের

ক্ষমতার পালাবদলে রাজনৈতিক পরিচয়ের রং বদলেছে, তবে বদলায়নি প্রভাবের বলয়—এমন অভিযোগই উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়েরকে ঘিরে। রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার, রংপুরে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী মডেল মসজিদের টেন্ডারে প্রায় ৭০ লাখ টাকার অভিযোগ থেকে শুরু করে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণকাজে মাত্র ৬৪ টাকার ব্যবধান—বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার ও নথি ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ক্ষমতার পালাবদল হলেও প্রশাসনের ভেতরে তার প্রভাবের পরিধিতে খুব একটা ভাটা পড়েনি। ঘুষের টাকার দাপটে তার টার্গেট প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার। ওই চেয়ারে বসতে ইতোমধ্যে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে খ্যাত প্রকৌশলী খায়ের ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছে। সেই টাকাই এখন তদবিরের কাজে ব্যবহার করছেন।

তিনি শুধু টেন্ডার নয়, তার রাজনৈতিক পরিচয়ের বহুরূপিতা নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা। কখনো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ, আবার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেকে বিএনপিপন্থী হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি নিছক রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন, নাকি প্রশাসনিক প্রভাব ধরে রাখার কৌশল।

বিজ্ঞাপন

চাকরি জীবনের বিভিন্ন সময়ে আবুল খায়ের নিজেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির আমলে তিনি বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ আমলে গোপালগঞ্জে গিয়ে নিজেকে কট্টর আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন—এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রায় তিন বছর গোপালগঞ্জে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন আবুল খায়ের। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে ‘বুয়েট ছাত্রলীগের প্রাক্তন নেতা’ এবং বিগত সরকারের ‘শেখ পরিবারের অত্যন্ত আস্থাভাজন’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম আড়াল করতেন। নিজেকে বর্তমানে বিএনপিপন্থী ও বঞ্চিত দাবি করলেও বিগত ১৭ বছর তিনি মুজিববাদের চর্চা ও পূজা ছাড়া আর কিছুই করেননি এমন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো সময়েই তিনি বিএনপির স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি। এ কারণে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিএনপিপন্থী অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তার ওপর ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, আবুল খায়ের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছিলো স্বৈরাচারের দোসর।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত ১৫ বছর তিনি মুজিববাদের কঠোর চর্চা করেছেন এবং নিজেকে মুজিববাদের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে উদ্বোধন করার কথা থাকলেও ‘মুজিব কর্নার’-এর উদ্বোধন করতে তিনি নিজেই গোপালগঞ্জে ছুটে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সবাইকে তার জীবন অনুসরণের তাগিদ দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অফিসেও তিনি মুজিববাদের আদলে এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী পরিবেশ তৈরি করেছিলেন এবং ফ্যাসিস্ট আচরণের মাধ্যমে অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তটস্থ রাখতেন।

বিজ্ঞাপন

আবুল খায়েরের নিজ জেলা ময়মনসিংহ এ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ-২ আসনের সাবেক এমপি শরীফ আহমেদের সঙ্গে সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরে এক ধরনের আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ বলয় তৈরি করেছিলেন। তৎকালীন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর এতটাই আস্থাভাজন ছিলেন যে দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুল বিনিময় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে ফুল দেওয়ার বিষয়টি সে সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরে নানা আলোচনা ও কানাঘুষার জন্ম দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শন করে নিজেকে মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিতেন আবুল খায়ের। মন্ত্রীর হয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা-পয়সা সংগ্রহ করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অনেকেই তাকে তৎকালীন মন্ত্রীর ‘হ্যান্ডেলার’ হিসেবে জানতেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি। কোনো ফাইল মন্ত্রীর মাধ্যমে অনুমোদন করানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তিনি পালন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল খায়ের রংপুর জোনে যোগদানের পর থেকেই রংপুর বিভাগের আট জেলার বড় প্রকল্পগুলো তার আস্থাভাজন ঠিকাদারদের মধ্যে ভাগ করে দেন।

এ ক্ষেত্রে তিনি কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করতেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। রংপুর জোনে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভাগের আট জেলার বড় প্রকল্পের টেন্ডার নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতেন আবুল খায়ের।

একাধিক টেন্ডার নথি পর্যালোচনা করে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ভুল ও অসত্য তথ্যের মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, ডিজিটাল টেন্ডার ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে সরকারি অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। আবুল খায়েরের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অনিয়মের মাধ্যমে অনেক অসাধু কর্মকর্তা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পর থেকে রংপুর গণপূর্ত জোনে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের প্রভাব বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর রাতে আয়োজিত ব্যাডমিন্টন সমাপনী অনুষ্ঠানে সাজ্জাদ আলী কনস্ট্রাকশনের প্রোপাইটর শাহানেওয়াজ আলী টিটুকে দেখা যায়। মামলার আসামি হয়েও তিনি ঠিকাদারি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে তিনি মামলায় জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আকবরসহ কয়েকজন নিয়মিত অফিস কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, এভাবে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চলতে থাকলে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পরও আবুল খায়েরের সহযোগিতায় রংপুরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণে শাহানেওয়াজ আলী টিটুর পাশাপাশি ঠিকাদার বাড়ি মিঠু, আকবর আলী, বাবুল আক্তার, যুবলীগের সাবেক নেতা জবা, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মওদুদ, সাগর, নিলয়সহ আরও কয়েকজন যুক্ত রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, আবুল খায়ের বিভিন্ন এলাকায় নিজেকে রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে মধ্যযুগীয় কায়দায় স্ত্রী ও সন্তানদের মাধ্যমে এক ধরনের শাসন চাপিয়ে দিতেন। সরকারি সফরে স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে রাখা এবং সরকারি খরচে প্রটোকল সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সফরকালে সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীদের ওপর উপহারসামগ্রী ও উন্নত খাবারের বিশাল তালিকা চাপিয়ে দেওয়া এবং তা দিতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার বদলির পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা তার ‘অত্যাচার’ থেকে মুক্তির আনন্দে বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করেছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ জুন রংপুর শহরের গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেলে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বর্ণাঢ্য পারিবারিক মিলনমেলা ও সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করা হয় বলে সূত্র জানায়। ওই অনুষ্ঠানের অর্থের উৎস পছন্দের ঠিকাদার।

জানা যায়, স্থানীয় ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে ওই অনুষ্ঠানের খরচ জোগাড় করা হয়। এ আয়োজন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইতিহাসে বিরল ঘটনা বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী মডেল মসজিদের টেন্ডারে নির্বাহী প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল খায়েরের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে প্রায় ৭০ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যোগ্য ঠিকাদারকে মনগড়া কারণ দেখিয়ে বাদ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইসলামিক ফাউন্ডেশন খরচ কমানোর লক্ষ্যে জেনারেটর ও বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন না রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর টেন্ডার ওপেনিং করা হলে দেখা যায়, বাদ দেওয়া ওই দুটি আইটেমের প্রায় ৭০ লাখ টাকা প্রাক্কলন থেকে কমানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে ওই দুটি আইটেমের রেট কম ধরে অন্য আইটেমে টাকা বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিকল্পনা ছিল, অনৈতিকভাবে সংযুক্ত ওই ৭০ লাখ টাকার ৬০ শতাংশ ঠিকাদার এবং ৪০ শতাংশ অফিসের কর্মকর্তারা ভাগাভাগি করে নেবেন। কিন্তু পছন্দের ঠিকাদার কাজ না পাওয়ায় মনগড়া নিয়ম দেখিয়ে বৈধভাবে কাজ পাওয়া ঠিকাদারকে বাতিল করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) বাউন্ডারি ওয়ালের কাজেও অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাউন্ডারি ওয়ালের কাজে আটটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে মূল মূল্যায়নে রাখা হয়। অনৈতিক সুবিধা দিতে প্রাক্কলন প্রস্তুতের সময় নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে অন্য কোনো ঠিকাদার রেট মেলাতে না পারে। ফলে চারটি প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ শতাংশের বেশি ছাড় দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ পড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এরপর পছন্দের পঞ্চম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মাত্র ৬৪ টাকার ব্যবধানে প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতা করা হয়। অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো, ওই বিজয়ী প্রতিষ্ঠানকে ভুয়া বা জাল কার্যসম্পাদন সনদ দিয়ে কাজ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার প্রকাশের কমপক্ষে ২৮ দিন আগে কাজ শেষ হওয়ার সনদ দেওয়ার কথা থাকলেও ওই সময়ে কাজটির নির্মাণকাজ চলমান ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। টেন্ডারের শর্তাবলি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে অন্য কেউ কাজটি না পায়—এমন অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের পর নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুন হককে শাস্তিমূলক বদলি করা হলেও মূল অভিযুক্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল খায়ের রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে—এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নথির তথ্যের বরাত দিয়ে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, আবুল খায়ের এই কাজটি দেন শাহানেওয়াজ আলী টিটুকে। তার নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা নম্বর ১২/৪৯১-এ ৩ নম্বর আসামি হিসেবে মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়েরের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেওয়া ইমামুল হক নামের এক ব্যক্তিকে উল্টো আমার ফোনে কল দিয়ে উচ্চকণ্ঠে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। তিনি উকিল নোটিশ, মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমার নাম শুনলে কেউ নিউজ করে না। আপনার এত সাহস কোথা থেকে আসে?” এ সময় তিনি কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার নাম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকদের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, তাঁর নাম জানার পর সেসব গণমাধ্যমে নাকি সংবাদ প্রকাশ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আপনি কোন ক্ষমতায় এই নিউজ ছাপাবেন?”

এ ব্যাপারে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি দমনে দেশে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান রয়েছে; সংকট মূলত সেগুলোর যথাযথ ও নিরপেক্ষ প্রয়োগে। প্রান্তিক পর্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হলেও প্রভাবশালী মহলের অনিয়ম-দুর্নীতিতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় দুর্নীতির বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না। আইনের কঠোর প্রয়োগ, কার্যকর জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃঢ় পদক্ষেপই পারে এই অনিয়মের বলয় ভেঙে দিতে।

প্রিয় পাঠক, ধারাবাহিক অনুসন্ধানের পরবর্তী পর্বে থাকছে—‘শীর্ষ চেয়ার দখলের টার্গেট প্রকৌশলী আবুল খায়েরের’।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD