Logo

ফায়ার এক্সটিংগুইশারে রিফিল প্রতারণা, ফেঁসে গেলেন সুমন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:১০
ফায়ার এক্সটিংগুইশারে রিফিল প্রতারণা, ফেঁসে গেলেন সুমন
ছবি: সংগৃহীত

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) রিফিলের নামে প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার কামরুজ্জামান সুমনকে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিস্তারিত তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। গত বুধবার কামরুজ্জামান সুমনকে কক্সবাজারের টেকনাফে বদলি করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বদলির পর গত বৃহস্পতিবার ভোরে পরিবারের সদস্য ও মালামাল নিয়ে তিনি মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ত্যাগ করেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, কামরুজ্জামান সুমনের মূল কর্মস্থল পাশের খালিয়াজুরী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। সেটি চালু না থাকায় তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মোহনগঞ্জ স্টেশনের দায়িত্বও পালন করছিলেন। ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে তিনি দুই স্টেশনের দায়িত্বে ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ফায়ার এক্সটিংগুইশার সংগ্রহ করে রিফিলের নামে সেগুলো পরিষ্কার করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, যন্ত্রের ভেতরের ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার পরিবর্তন না করেই ময়মনসিংহের ‘দ্য সেফ মার্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নকল স্টিকার লাগানো হতো। ওই স্টিকারে রিফিল ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ করা হতো। কোনো কোনো যন্ত্রে রিফিলকারীর স্বাক্ষরও ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীরা জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার ওপর আস্থা রেখেই তারা যন্ত্রগুলো রিফিলের জন্য দিতেন। প্রতিটি যন্ত্রের বিপরীতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হলেও বিল বা ভাউচার দেওয়া হতো না। ফলে যন্ত্রের ভেতরের রাসায়নিক আদৌ পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

অভিযোগ আরও রয়েছে, স্থানীয় একটি ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠান থেকে ‘দ্য সেফ মার্ট’-এর নকল স্টিকার ছাপানো হতো। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফায়ার এক্সটিংগুইশার সংগ্রহ করে রিফিলের নামে টাকা নেওয়ার পর সেগুলোতে ওই স্টিকার লাগানো হতো।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক ফায়ার এক্সটিংগুইশার রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মোহনগঞ্জ পৌর শহরের শাহজালাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মাহবুব আলম সেলিম বলেন, নেত্রকোনা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা এসে বিষয়টি তদন্ত করেছেন এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্ত কর্মকর্তাকে তারা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে কথা বলার পর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর কামরুজ্জামান সুমনকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অভিযোগ গুরুতর হওয়ায় বিস্তারিত তদন্তের জন্য অন্য জেলার কর্মকর্তাদের নিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কমিটির সদস্যদের নাম-পদবি এবং প্রতিবেদন জমার সময়সীমা তিনি জানাননি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এদিকে কামরুজ্জামান সুমনের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক সেবন ও সরকারি মালামাল বিক্রির অভিযোগ ওঠার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে রংপুরে স্টেশন অফিসারের দায়িত্বে থাকার সময় ফেনসিডিল সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানা যায়। একই সময়ে সরকারি মালামাল বিক্রির অভিযোগও ওঠে।

বিজ্ঞাপন

তৎকালীন ঘটনায় সুমন দাবি করেছিলেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ফেনসিডিল সেবন করানো হয়েছিল। পরে তাকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়। ওই ঘটনায় অর্থের বিনিময়ে শাস্তি এড়িয়ে শুধু বদলির মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল—এমন অভিযোগও রয়েছে। এসব পুরোনো অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বর্তমান বক্তব্য জানা যায়নি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD