মোজাফ্ফরকে এতদিন কারা আশ্রয় দিয়েছে, প্রশ্ন রিজভীর

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফ্ফর হোসেন ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানতে চেয়েছেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে মোজাফ্ফর কোথায় ছিলেন এবং দেশ-বিদেশে কারা তাকে আশ্রয় ও সহায়তা দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ ভবনে যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মরহুম জাকির হোসেন নান্নুর স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার এক আসামিকে চার দশকেরও বেশি সময় পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কোথায় অবস্থান করেছেন, কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে ছিলেন এবং কারা তাকে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছেন—এসব বিষয়ে জাতির সামনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি শুধু একজন পলাতক আসামির গ্রেপ্তারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এত বছর ধরে তাকে কারা সহযোগিতা করেছে, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা উচিত।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
একই বক্তব্যে কাদের সিদ্দিকীর অতীত ভূমিকাও তুলে ধরেন রিজভী। তার দাবি, সে সময় কাদের সিদ্দিকী বিদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং অস্ত্রও পেয়েছিলেন। দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাকে কারা ব্যবহার করেছিল, সেই বিষয়টিও জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আন্দোলনের সময় মুগ্ধ, ওয়াসিফ, আবু সাঈদসহ অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। তার অভিযোগ, এসব ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী পরে ভারতে চলে গেছেন, তাদের আশ্রয়দাতাদের পরিচয় সম্পর্কেও জনগণ জানতে চায়।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, রাজনৈতিক সংগ্রামে হতাশ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দীর্ঘ ত্যাগ, ধৈর্য ও আন্দোলনের ফল একসময় অবশ্যই আসে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান এবং নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ প্রমাণ করে যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আত্মত্যাগ কখনো বিফলে যায় না।
প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা আরও বলেন, ন্যায় ও গণতন্ত্রের পথে যারা অবিচল থাকেন, শেষ পর্যন্ত তারাই সফল হন। তাই বিএনপির আদর্শ ধারণ করে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিরও প্রশংসা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতা বৃদ্ধি এবং কৃষক কার্ড চালুর মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এসব কর্মসূচির সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারলে ত্যাগী নেতাদের অবদান আরও অর্থবহ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ প্রবাসজীবন ও নানা নির্যাতনের পর দলের চেয়ারম্যানের দেশে ফিরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এ কারণে নেতাকর্মীদের তার নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলো সেই চেতনার ধারক। বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই দলটির জন্ম হয়েছে। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলনেও বিএনপি কোনো আপস করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।








