Logo

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা, স্পিকারের রুলিং

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জুন, ২০২৬, ১৭:১৯
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা, স্পিকারের রুলিং
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ছাত্রশিবিরের এক নেতার নিখোঁজ হওয়া, তাকে উদ্ধার এবং পরবর্তীতে দায়ের হওয়া মামলার বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার রুলিং দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতির পর এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, গত ১১ জুন কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জিসান মিয়া প্রধানের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে এক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে জোর করে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ানোর অভিযোগ ওঠে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, ১২ জুন বিয়ের দিন নির্ধারিত থাকলেও তার আগের রাতে জিসান আত্মগোপন করেন। পরে পুলিশ তাকে লাকসাম এলাকা থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে জিসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলার দুই আসামি ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সরকারকে দায়ী করার চেষ্টা হয়েছিল। প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতেই তিনি সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

তবে তার বক্তব্যের পরই তীব্র আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের। তিনি অভিযোগ করেন, ৩০০ বিধির সুযোগ নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, বিচারাধীন ও বিতর্কিত একটি বিষয় সংসদে এভাবে উপস্থাপন করা নজিরবিহীন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, জিসান বর্তমানে কোথায় রয়েছেন এবং কেন সাংবাদিকদের তার বা অভিযোগকারী নারীর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ঘটনায় কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

এ বক্তব্যের পর সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংসদ কক্ষে ব্যাপক হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

বিজ্ঞাপন

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার বারবার সদস্যদের আসনে বসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ৩০০ বিধির আওতায় দেওয়া বক্তব্যের পর সাধারণত প্রশ্ন বা বিতর্কের সুযোগ নেই। বিশেষ বিবেচনায় বিরোধীদলীয় উপনেতাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী বা অসংসদীয় কোনো শব্দ বা বক্তব্য থাকলে তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে তা বাদ দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

স্পিকারের রুলিংয়ের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে অধিবেশন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা দিয়ে এগিয়ে যায়।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD