Logo

গোয়েন্দা সতর্কতার ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জুন, ২০২৬, ১৫:৩৬
গোয়েন্দা সতর্কতার ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর সম্ভাব্য তৎপরতা ও নাশকতার আশঙ্কায় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের তুলনায় আরও উন্নত অবস্থায় রয়েছে। সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশ আয়োজন করা একটি স্বীকৃত অধিকার। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি পালনের সুযোগ গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও বিকশিত করে। তবে আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের সম্ভাব্য অপতৎপরতার তথ্য উঠে এসেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করাও সরকারের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে একই দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর অবৈধ মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জানমালের ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এই প্রেক্ষাপটে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর, চট্টগ্রাম মহানগর, গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ এবং ফরিদপুর জেলায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ কাঠামোর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

সংশ্লিষ্ট নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করবেন এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষায় কাজ করবেন।

বিজ্ঞাপন

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ মোতায়েন আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সেনা মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য সহিংসতা ও নাশকতার ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD