সংসদ ভবনে ফাটল ও চুইয়ে পড়ে বৃষ্টির পানি, জামায়াত এমপির নোটিশ

দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়ন প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন অংশে অবকাঠামোগত ত্রুটি দেখা দেওয়ার বিষয়টি সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্তরে ফাটল সৃষ্টি এবং বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ার অভিযোগ তুলে দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এক সংসদ সদস্য।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১২তম কার্যদিবসে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।
নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদ ভবন শুধু একটি প্রশাসনিক স্থাপনা নয়; এটি দেশের গণতন্ত্র, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং সাংবিধানিক কাঠামোর অন্যতম প্রতীক। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অবকাঠামোগত সমস্যা দেখা দেওয়া উদ্বেগের বিষয়। তাই ভবনের নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং মর্যাদা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
রাশেদুল ইসলাম রাশেদ তার বক্তব্যে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়া এবং বৃষ্টির সময় পানি প্রবেশের বিষয়টি তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি মনে করেন, সময়মতো সংস্কার কার্যক্রম হাতে না নিলে ভবিষ্যতে সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।
তবে সংসদীয় বিধান অনুযায়ী, নোটিশটি সংসদ সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। এরপরও স্পিকার বিষয়টির গুরুত্ব স্বীকার করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
এদিকে একই দিনের কার্যসূচির শুরুতে সংসদ সদস্যদের পরিচিতি আরও সহজ করার দাবিতে পৃথক একটি নোটিশ উত্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর আরেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রায় চার মাস অতিক্রম হলেও অনেক সংসদ সদস্য এখনও জনসাধারণের কাছে পর্যাপ্তভাবে পরিচিত নন। সংসদ অধিবেশনের সরাসরি সম্প্রচারের সময় সদস্যদের বক্তব্য দেখা ও শোনা গেলেও তাদের নাম এবং নির্বাচনী এলাকার পরিচয় টেলিভিশনের পর্দায় প্রদর্শিত হয় না।
তার মতে, বক্তব্য প্রদানের সময় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের নাম ও নির্বাচনী এলাকার তথ্য স্ক্রিনে দেখানো হলে দর্শক ও নাগরিকদের জন্য প্রতিনিধিদের চিহ্নিত করা সহজ হবে। এতে সংসদীয় কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
মুজিবুর রহমানের প্রস্তাবকে যৌক্তিক ও সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেন স্পিকার। তিনি সংসদ সচিবালয়কে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
স্পিকার জানান, এখন থেকে সংসদ সদস্যরা অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় টেলিভিশন সম্প্রচারে তাদের নাম এবং নির্বাচনী এলাকার তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে সংসদীয় কার্যক্রম অনুসরণকারী নাগরিকরা সহজেই বক্তাকে শনাক্ত করতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
তবে সংসদীয় বিধির আওতায় বিষয়টি বিশেষ অধিকারের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এই নোটিশটিও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি।
দিনের অধিবেশনে উত্থাপিত দুটি বিষয়ই সংসদের কার্যক্রম, অবকাঠামো ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় সংসদ সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে সংসদ ভবনের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা এবং সম্প্রচার ব্যবস্থায় তথ্য প্রদর্শনের বিষয় দুটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।








