Logo

ঢাকার বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ জুলাই, ২০২৬, ২১:২৬
ঢাকার বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট কমাতে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় ঢাকা শহরকে ঘিরে নির্মাণাধীন ইনার সার্কুলার রিং রোড এবং সম্ভাব্য বৃত্তাকার নৌপথ চালুর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সড়ক ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, রাজধানীর যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথ কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইনার সার্কুলার রিং রোড প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, রাজধানীকে ঘিরে নির্মাণাধীন বৃত্তাকার সড়কের একটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বছিলা, হাজারীবাগ, সোয়ারিঘাট, কদমতলী, তেঘরিয়া, পোস্তগোলা, ফতুল্লা, চাষাঢ়া ও শিমরাইল হয়ে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। অপর অংশটি আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে তেরমুখ, পূর্বাচল ও বেরাইদ হয়ে ডেমরার সঙ্গে যুক্ত হবে। দুই অংশ মিলিয়ে সড়কটির মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৮৯ কিলোমিটার।

বর্তমানে রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশে নির্মাণকাজ চলছে। বৈঠকে জানানো হয়, প্রকল্পটির সামগ্রিক কাজের প্রায় ৪৫ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই বৃত্তাকার সড়ক চালু হলে রাজধানীর অভ্যন্তরে প্রবেশ না করেই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে সিলেট, মাওয়া ও চট্টগ্রামমুখী যানবাহনকে আর ঢাকা শহরের ভেতর দিয়ে চলাচল করতে হবে না। ফলে নগরীর অভ্যন্তরে যানবাহনের চাপ কমবে এবং যানজটও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে ঢাকা শহরকে ঘিরে প্রায় ১১০ কিলোমিটার নৌপথ ব্যবহারের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই নৌপথ চালু করা গেলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সহজে যাতায়াতের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং সড়কের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।

বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে জানান, বৃত্তাকার নৌপথ চালু হলে তা পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। কারণ এ রুটে চলাচলকারী যানবাহন বিদ্যুৎচালিত হবে, ফলে জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশ দূষণও কমবে। একই সঙ্গে যাতায়াতের সময়ও কমে আসবে বলে তারা মত দেন।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, সড়ক পরিবহন সচিব জিয়াউল হক, নৌপরিবহন সচিব মো. জাকারিয়া, রেলপথ সচিব ফাহমিদুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী জহিরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীল এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত ও অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD