আগামী তিন দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, ৬ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে কুশিয়ারা নদীর পানি দুটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের ছয় জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে আগামী তিন দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিরও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৮ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী অববাহিকার পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর প্রভাবে ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলিতে ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ ছাড়া সুরমা নদীর ছাতক ও কুশিয়ারার শেরপুর পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া, তারাপুর ও সরিষাবাড়ী পয়েন্টেও পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিও খুব একটা উন্নতির দিকে যাচ্ছে না। আগামী তিন দিন সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বন্যা পরিস্থিতির পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উজানের ভারী বৃষ্টি। গত ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীর ডালিয়ায় ১৯০ মিলিমিটার, ছাতকে ৮৯ মিলিমিটার, ঠাকুরগাঁওয়ে ৮২ মিলিমিটার এবং সিলেটে ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
ভারতের মেঘালয়ের মৌসিনরামে ৩৮৯ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ২৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে ভারতের উজান এলাকাতেও ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ের মৌসিনরামে ৩৮৯ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ২৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এসব এলাকার অতিবৃষ্টির প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।








