Logo

বন্যার আশঙ্কা নিয়ে উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলার জন্য দুঃসংবাদ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৩১
বন্যার আশঙ্কা নিয়ে উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলার জন্য দুঃসংবাদ
ছবি: সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনের মধ্যে আবারও পানি বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

পাউবোর সতর্কবার্তায় বলা হয়, আগামী ৭২ ঘণ্টায় এসব জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকায় কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া আগামী পাঁচ দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিও এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

তবে কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারা নদীর পানি আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও একই সময়ে সুরমা নদীর পানি সামান্য কমেছে। তবে আগামী তিন দিনের মধ্যে এই দুই নদীর পানিও আবার বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বর্তমানে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে, যা স্থানীয়ভাবে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর ওডিশা, বিহার এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দিচ্ছে।

এ ছাড়া ভারতের মেঘালয়ের কয়েকটি অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজানের এই বৃষ্টির প্রভাব বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোতে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD