চট্টগ্রামে বন্যায় প্রাণহানি ১৬, ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ হাজার ঘরবাড়ি

টানা বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ১৫ হাজার ২২৮টি বসতবাড়ি, ৪০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও সন্দ্বীপ উপজেলা।
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যায় মহানগরসহ জেলার মোট ১৫টি উপজেলা প্লাবিত হয়। এসব এলাকায় ৯ হাজার ২০৮টি বসতবাড়ি আংশিক এবং ৬ হাজার ২০টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের কারণে মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪০০ মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এছাড়া বন্যার প্রভাবে জেলার শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১ হাজার ৪৯২ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬৯টি সেতু ও কালভার্ট। ফলে অনেক এলাকায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ও শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয় এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২৪৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া মানুষ ইতোমধ্যে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকার ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৯৫ লাখ টাকা নগদ সহায়তা, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা, গোখাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা, ১ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহনির্মাণের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে ১ হাজার ৮০ মেট্রিক টন চাল, ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং গোখাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে ১২০ মেট্রিক টন চাল, ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ১ হাজার ৪৫ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহনির্মাণের জন্য ৩০ লাখ টাকা, যা প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৮ ও ১৯ জুলাই দেশের এই অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। আর ২০ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নতুন করে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা বা বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।








