পশুবাহী ট্রাক আটকে পথরোধের অভিযোগ, সংকটে কাইতলা পশুর হাট

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাইতলা পশুর হাটে যাওয়ার পথে পশুবাহী ট্রাক আটকে ব্যবসায়ীদের পথরোধের অভিযোগ উঠেছে পাশের সখীপুর উপজেলার দেওদিঘী হাট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কয়েক কোটি টাকায় ইজারা নেওয়া কাইতলা পশুর হাট আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন হাটের ইজারাদাররা।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৮ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, দেওদিঘী হাটের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি কাইতলা হাটগামী পশুবাহী ট্রাক থামিয়ে ব্যবসায়ীদের দেওদিঘী হাটে পশু নামানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশের হাট হিসেবে পরিচিত দেওদিঘী হাটটি এবার ৩ লাখ ১০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হলেও সেখানে পশুর হাট বসানো হচ্ছে। এতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বছরের পুরোনো কাইতলা পশুর হাটের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রায় ৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকায় ইজারা হওয়া কাইতলা হাট রক্ষায় ইজারাদাররা প্রশাসন ও আদালতের শরণাপন্ন হলেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। উচ্চ আদালতের রায়ের পর দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কাইতলা হাটের ইজারাদার আলহাজ মাসুদুর রহমান বলেন, জোরপূর্বক ট্রাক আটকে ব্যবসায়ীদের অন্য হাটে পাঠানো হচ্ছে। এতে শুধু আমাদেরই ক্ষতি হচ্ছে না, সরকারের রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কেউ বড় অঙ্কের টাকায় হাট ইজারা নিতে আগ্রহী হবে না।
একাধিক পশু ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তাদের ট্রাক আটকে দেওদিঘী হাটে পশু নামাতে বাধ্য করা হচ্ছে। সেখানে পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন।
বিজ্ঞাপন
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেওদিঘী হাটের ইজারাদার শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জোর করে কোনো ট্রাক আটকে রাখা হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ অন্যের ব্যবসায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবিব বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। শনিবারের ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








