খালেদা জিয়ার সাথে অসদাচরণকারীসহ ১৭ পুলিশের বাধ্যতামূলক অবসর

বাংলাদেশ পুলিশের ১৭ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে একযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনজন নারী অতিরিক্ত ডিআইজিও রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তার ও আদালতে নেওয়ার সময় অসদাচরণের অভিযোগ ছিল।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহীল বাকী, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (সারদা)-এর ডিআইজি মো. ওয়ালিদ হোসেন এবং সিআইডির ডিআইজি সানা শামীনুর রহমান।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার যেসব কর্মকর্তা অবসরে গেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন সিআইডির মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের বিধান ত্রিপুরা, পুলিশ স্টাফ কলেজের ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন, এপিবিএনের সহেলী ফেরদৌস, সিআইডির রেবেকা সুলতানা, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, পুলিশ টেলিকমের হাসিনা রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের ফয়সাল মাহমুদ ও কানিজ ফাতেমা, ট্যুরিস্ট পুলিশের সুলতানা নাজমা হোসেন এবং নৌ পুলিশের জেসমিন বেগম।
তালিকায় আরও রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) ফরিদা ইয়াসমিন, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান এবং টিডিএস ঢাকার পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অবসরে পাঠানো কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক আনুগত্য, প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি গ্রহণ, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়া, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা এবং বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিন নারী কর্মকর্তার বিষয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। নথিতে উল্লেখ রয়েছে, অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা ও জেসমিন বেগমের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে খালেদা জিয়াকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৮ সালে আদালতের রায়ের পর খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ওই অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে যে, খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তার দাবি, পদোন্নতির সময় ঘনিয়ে আসায় একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সরকারি নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনে চলমান পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে এর আগেও সরকার একাধিক ধাপে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আরও ১৭ কর্মকর্তার চাকরির অবসান ঘটল।








