Logo

পেঁয়াজ সংরক্ষণে ১৫ হাজার মেশিন দেওয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ জুলাই, ২০২৬, ১৩:৪৩
পেঁয়াজ সংরক্ষণে ১৫ হাজার মেশিন দেওয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী
ছবি প্রতিনিধি।

পেঁয়াজ সংরক্ষণে নতুন করে কৃষকদের আরো ১৫ হাজার মেশিন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, আমাদের এক কোটি মানুষ দেশের বাইরে থাকে। তারা দেশিয় পেঁয়াজ খেতে চায়। কেননা বিশ্বের অন্যান্য দেশের যেসব পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় সেগুলো প্রায় সবজির মত। প্রকৃত পেঁয়াজ বলতে আমাদের দেশিয়টাই বোঝায়।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে 'বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রতিকূল প্ৰভাব প্রশমনে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কৃষক পর্যায়ে পেয়াঁজ সংরক্ষণের অভিযোজন প্রকল্প' এর জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব ড. মো. রফিকুল ই মোহামেদ, মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পিটির পরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান।

আমিন উর রশিদ বলেন, দেশে চাহিদার চেয়েও উৎপাদন বেশি থাকলেও সংরক্ষণের অভাবে আমদানি করতে হয়। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা পেঁয়াজের সংরক্ষণ বাড়াবো। এতে করে আমদানি শূন্য নামিয়ে আনা হবে। উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানি করা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ড. মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, বছরে ৪-৭ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। অথচ১০ ফিট বাই ১০ ফিটের ইটের একটি ঘর তৈরি করে ইয়ার ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পেঁয়াজের কেজি ২০ টাকার নিচে নয় এবং ৮০-১০০ টাকার বেশিও নয়। পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা হলে কৃষকরা পায় ৫০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, এ পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলে বছরে ৩৭৫ কোটি টাকার পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব। মূলত তাহেপুরি পেঁয়াজই বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়।

ড. মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসে শুরু হয়ে প্রকল্পটি চলবে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পুরো অর্থায়ন করছে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি প্রকল্পটি পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ঝিনাইদহ, মানিকগঞ্জ, নাটোর, নওঁগা, মেহেরপুর, চাপাইনবাবগঞ্জ, মাদারিপুর, শরিয়তপুর, রংপুর, বগুড়াসহ ১৬ জেলার ১০৭টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পরিচালক জানান, প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে- অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এয়ার ফ্লো মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে পেঁয়াজ পচন রোধপূর্বক কৃষক পর্যায়ে সারা বছর পেঁয়াজ সংরক্ষণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং আমদানী ব্যয় কমানো।

এছাড়া প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, পেঁয়াজের সংগ্রহোত্তর পচন রোধে ৩ হাজার ৭০০টি পরিবেশবান্ধব এয়ার ফ্লো মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে প্রতি বছর ২৫০ থেকে ২৬০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের পেঁয়াজ পঁচনের হাত থেকে রক্ষা করে দেশের আমদানি ব্যয় কমানো যাবে।

পরিচালক জানান, প্রকল্পের আওতায় কৃষক পর্যায়ে ৩ হাজার ৯০০ জন কৃষককে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মূলত সেপ্টেম্বর-নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দেয়।

বিজ্ঞাপন

এতে করে পেঁয়াজের সংগ্রহোত্তর ক্ষতি শতকরা ১০-১৫ ভাগ কমানো এবং সারা বছর পেঁয়াজ সংরক্ষণ ও বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে। তা ছাড়া পেঁয়াজ পঁচন থেকে রক্ষার মাধ্যমে নির্গত গ্যাসের (কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড) ক্ষতিকর প্রভাব হতে পরিবেশকে রক্ষা করা।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD