দল থেকে বহিষ্কার হলেই কি এমপি পদ বাতিল, কী বলছে সংবিধান?

কোনো রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার করা হলে কি একজন সংসদ সদস্য (এমপি) স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পদ হারান? সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর এই প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে সংবিধান ও অতীতের নজির বলছে, শুধু দলীয় বহিষ্কারেই সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয় না।
বিজ্ঞাপন
অতীতে নবম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এইচ এম গোলাম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু স্পিকারের কাছে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি সংসদ সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেন। ফলে শুধু দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণে এমপি পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো রাজনৈতিক দল যদি কোনো সদস্যকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করে এবং সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণার জন্য স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়, তখন বিষয়টি সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি ও আইনের ব্যাখ্যার ওপর।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কী বলছে?
বিজ্ঞাপন
আইনজ্ঞরা বলেন, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ দেখতে হবে। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সদস্যপদ শূন্য হতে পারে। তবে দল থেকে বহিষ্কারকে সদস্যপদ বাতিলের কারণ হিসেবে সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।
ফলে আইনগতভাবে কোনো ব্যক্তি দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকতে পারেন।
তবে অতীতে এমন নজিরও রয়েছে, যেখানে দল কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করে স্পিকারের কাছে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে এমন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, কোনো দল যদি শুধু সাংগঠনিক বা প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করে এবং স্পিকারের কাছে এমপি পদ শূন্য ঘোষণার আবেদন না করে, তাহলে সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, দল কাউকে বহিষ্কার করতে পারে, কিন্তু এমপি পদ থেকে অপসারণ করতে পারে না। তাদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে যাবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে কয়েকটি সম্ভাবনা রয়েছে—
বিজ্ঞাপন
দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকতে পারেন। বিষয়টি স্পিকারের সিদ্ধান্ত বা আদালতের ব্যাখ্যার জন্য যেতে পারে। রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হতে পারে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে, কেবল দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় কোনো সংসদ সদস্যের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে স্পিকারের পদক্ষেপ, প্রযোজ্য সাংবিধানিক বিধান এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলের কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি এখনো কমিশনের কাছে পৌঁছায়নি। তাই এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই।








