আওয়ামী লীগের মধ্যে অনুশোচনা নেই, শাস্তি দেবে সরকার: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ দেশের ব্যাপক ক্ষতি করেছে এবং ক্ষমতায় থাকাকালে নানা ধরনের অনিয়ম ও নির্যাতন চালিয়েছে। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পরও দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যাচ্ছে না। তাদের শাস্তি দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
রবিবার বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থ চুরি করে ফিলিপাইনে নিয়ে গেছে। ‘আয়নাঘর’ নামে যে টর্চার সেল ছিল, সে বিষয়টিও দেশের মানুষ আগে জানত না। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের একটি মাফিয়াগোষ্ঠী এসব স্থাপনা তৈরি করে নিরীহ মানুষকে নির্যাতন করেছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত নেতা আহমদ বিন কাশেমকে আট বছর আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। পাশাপাশি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অনেককে বিনা অপরাধে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ২০২৪ সালে অভ্যুত্থান হয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্পিকার।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এত কিছু করার পরও তাদের (আওয়ামী লীগ) মধ্যে এতটুকু অনুশোচনা নেই। এদের শাস্তি দেবে সরকার।’
প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সরকার ভারতকে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। তবে এর পরও সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
মাদক প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ২০০৬ সালে দেশে মাদকের এমন পরিস্থিতি ছিল না। তার দাবি, আওয়ামী লীগই পরবর্তী সময়ে মাদকের বিস্তার ঘটিয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা নিজেরা মাদক গ্রহণের পাশাপাশি তা বিক্রিও করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক ও সামরিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, লালমোহন থেকে তিনিই প্রথম সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। মেজর জিয়াউর রহমান তার প্রশিক্ষক ছিলেন বলেও জানান তিনি। নিজের ক্ষেত্রে কখনোই ধনসম্পদ অর্জনের চেষ্টা করেননি দাবি করে স্পিকার বলেন, বর্তমানে অনেক সংসদ সদস্য হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
মতবিনিময় সভায় তজুমদ্দিনের উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন স্পিকার। তিনি রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তজুমদ্দিন উপজেলাকে পৌরসভায় রূপান্তরের আশ্বাস দেন।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টুর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা ইয়াছমিন, বিএনপি নেতা জাকির হোসেন হাংসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।








