Logo

আসিফসহ ‘নেপথ্যের নায়কদের’ তথ্য চেয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দুদকের চিঠি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:৫৫
আসিফসহ ‘নেপথ্যের নায়কদের’ তথ্য চেয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দুদকের চিঠি
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে বিভিন্ন নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিজ্ঞাপন

দুদকের বিশেষ তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালকের নির্দেশনার পর ৩ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এসব তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধানের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের বিরুদ্ধেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। যুগ্মসচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদকে ‘সেফ গার্ড’ দিয়ে বহাল রাখার অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে।

অভিযোগগুলো যাচাই করতে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও উপসহকারী পরিচালক রোমান উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনের সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে হওয়া বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির নথি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নথি এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও সহায়ক কাগজপত্রও তলব করা হয়েছে। এসব তথ্য ও রেকর্ড ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুদকে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছিল।

দুদক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭ মে ও ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলের দুটি স্মারকের ভিত্তিতে বদলি-সংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপিও চেয়েছে। একই সঙ্গে তিনটি স্মারকের আওতায় ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান, বাতিল ও পদায়ন-সংক্রান্ত নথিও তলব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ঢাকার গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ ও আমির; বগুড়ার আনিচ, জাহিদ ও ইব্রাহীম; বরিশালের জুলহাস; পাবনার নকিমউদ্দিন, আলী হোসেন ও আবু সাঈদ; ধামরাইয়ের কোরবান আলী এবং নরসিংদীর আলী হোসেনসহ মাঠপর্যায়ের কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথির সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়েছে।

৩৮ কর্মকর্তার পদায়নে ৭৬ লাখ টাকার অভিযোগ

দুদকের কাছে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নতুন করে পদায়নের ক্ষেত্রে মোট ৭৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রত্যেক কর্মকর্তার কাছ থেকে গড়ে প্রায় ২ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতিতেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, পদোন্নতির জন্য মোট ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের স্থানে পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নসংক্রান্ত এসব লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, পদোন্নতি, বদলি ও পদায়নসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

বিজ্ঞাপন

টেন্ডার ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের অভিযোগ

নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কেনাকাটা ও টেন্ডার নিয়েও অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগে বলা হয়েছে, অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে একটি ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলা হয়েছিল। ওই চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন টেন্ডার, কেনাকাটা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাচার, অবৈধ বিটকয়েন লেনদেন, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের মতো অভিযোগও রয়েছে বলে জানা গেছে। ক্রীড়া উপদেষ্টা থাকাকালে ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করবে দুদক।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD