Logo

বিএনপির পরিকল্পনা-কর্মসূচি সবসময় জনবান্ধব: প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:৪২
বিএনপির পরিকল্পনা-কর্মসূচি সবসময় জনবান্ধব: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার লক্ষ্য ও রূপরেখার সঙ্গে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মৌলিক উদ্দেশ্যের বড় ধরনের সামঞ্জস্য রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো: নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসডিজির অন্যতম মূলনীতি হলো কাউকে পিছিয়ে না রাখা। বর্তমান সরকারের জননীতিতেও একই ধরনের লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়েছে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার ও স্বার্থ নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের নীতি হচ্ছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

এমডিজির পর এসডিজিতেও অগ্রগতির দাবি

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। একই ধারাবাহিকতায় এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে সমন্বয় করে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সরকারপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসন—এসব ক্ষেত্রকে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

‘ভঙ্গুর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পালা’

সম্মেলনে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের শাসনামলে বাংলাদেশ ঋণনির্ভর ও আমদানিনির্ভর একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল বলে তার সরকার মনে করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে তৈরি হওয়া দুর্বলতা কাটিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ এখন শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণের সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায় এসডিজির লক্ষ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক সুরক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কৌশল

এসডিজি বাস্তবায়ন এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের অর্জনগুলো ধরে রাখতে সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন’—এই তিন ধাপের কৌশল নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

তার মতে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দেশের কাঠামোগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। সাময়িক সংকট মোকাবিলা থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের টেকসই উন্নয়ন—সবকিছুকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

ফ্যামিলি কার্ড থেকে ই-হেলথ কার্ড

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে সরকার গঠনের পরদিন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বল্প আয়ের পরিবার, প্রান্তিক কৃষক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ ছাড়া ক্রীড়া কার্ড এবং দেশের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ধীরে ধীরে দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হচ্ছে। চলতি মেয়াদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক সহায়তার কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিন গ্রামে পরীক্ষামূলক ‘এসডিজি ভিলেজ’

এসডিজি স্থানীয়করণের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেশের তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে নির্বাচনের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচিত গ্রামগুলো হলো— রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, এসব এলাকায় একসঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে তার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুলের পোশাক, মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, এক গ্রাম-এক পণ্য, বৃক্ষরোপণ ও খাল খননের মতো উদ্যোগ রয়েছে।

এর পাশাপাশি নীল অর্থনীতিভিত্তিক কর্মসংস্থান এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের মতো কার্যক্রমও পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন গ্রামের এই মডেল সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য গ্রামেও এর বিস্তৃতি ঘটানো হবে। তার প্রত্যাশা, ‘এসডিজি ভিলেজ’ উদ্যোগটি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারকে আন্তর্জাতিকভাবে উপস্থাপনের একটি কার্যকর মডেল হয়ে উঠবে।

এসডিজি বাস্তবায়নে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

শুধু একটি মন্ত্রণালয় বা সরকারি বিভাগের পক্ষে এসডিজির সব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ কাজে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ নাগরিক—সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিন দিনের জাতীয় সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তাদের অগ্রগতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানান তিনি। এসব আলোচনার ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা তৈরির প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্রের লক্ষ্য

আগামী দিনের বাংলাদেশ নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায় যেখানে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি থাকবে।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকারকে সর্বজনীন করার মাধ্যমে মানবিক রাষ্ট্র এবং প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও আন্তঃপ্রজন্ম ন্যায্যতা নিশ্চিত করে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক, গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগকে জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।

২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবাইকে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি ‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD