প্রধানমন্ত্রীর সফরে কতটুকু আশা পূরণ হলো চট্টগ্রামবাসীর?

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফর করেছেন তারেক রহমান। এক দিনের এই সফরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, নতুন ঘর হস্তান্তর, আর্থিক সহায়তা, বড় উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন, আলেম সমাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে ছিল ব্যাপক প্রত্যাশা। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্যাস, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ, পর্যটন, নগরের জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবিগুলো নতুন করে সামনে এসেছে।
তবে স্থানীয়দের বড় প্রশ্ন—প্রধানমন্ত্রীর সফরে যেসব বিষয় আলোচনায় এসেছে, সেগুলোর কতটা বাস্তবে রূপ নেবে এবং চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যার কতটা স্থায়ী সমাধান হবে?
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবার পেল নতুন ঘর
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রীর সফরের সবচেয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগগুলোর একটি ছিল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন। বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে বন্যায় ঘর হারানো এবং নিজেদের অর্থে নতুন ঘর নির্মাণে অক্ষম পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়। এসব পরিবারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ঘর।
প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষের পাশাপাশি সংযুক্ত শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় ঘর নির্মাণে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হয়েছে।
বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে নির্মিত এসব ঘরের মধ্যে ১০০ পরিবারের হাতে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী একজন উপকারভোগীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
বিজ্ঞাপন
তবে স্থানীয়দের মতে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সমস্যা শুধু বসতঘর হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক পরিবার কৃষি, ব্যবসা ও জীবিকার ক্ষতির মুখেও পড়েছে। তাই নতুন ঘরের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।
হাটহাজারীতেও দেওয়া হয়েছে আর্থিক সহায়তা
প্রধানমন্ত্রীর সফরের অংশ হিসেবে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার কর্মসূচি রাখা হয়। সেখানে ৩০টি পরিবারকে ঘর পুনর্নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অনেক পরিবার এখনো সংগ্রাম করছে। ঘরবাড়ির পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা ও আয়-রোজগারের ক্ষতি তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ফলে পুনর্বাসন কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।
মাতারবাড়ী মেগা প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর নজর
চট্টগ্রাম অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতিও দেখেন প্রধানমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বড় অর্থনৈতিক প্রত্যাশা রয়েছে। বন্দরটি কার্যকরভাবে চালু হলে বড় আকারের জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আসা, পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমানো এবং বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পায়নের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এর সঙ্গে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনাও যুক্ত রয়েছে। শিল্প, জ্বালানি ও বন্দরকেন্দ্রিক অবকাঠামো গড়ে উঠলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চল দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডরে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাতে ফটিকছড়ির দাবিও সামনে
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম আলোচিত কর্মসূচি ছিল ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ।
সাক্ষাতের পাশাপাশি ফটিকছড়ির স্থানীয় উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু দাবি আলোচনায় আসে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে রয়েছে সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ, গ্যাস-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা।
এ ছাড়া একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিশেষায়িত হাসপাতাল, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের উন্নয়ন এবং নাজিরহাট থেকে রামগড় পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের দাবিও রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক উন্নয়নের দাবি
ফটিকছড়ি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের দাবি, সড়কটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন করা হলে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং আন্তঃজেলা যোগাযোগে নতুন গতি আসতে পারে।
স্থানীয়দের আরেকটি প্রত্যাশা নাজিরহাট-রামগড় রেলপথ সম্প্রসারণ। এ রেলপথ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের সঙ্গে পার্বত্য এলাকার যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
গ্যাসক্ষেত্র থাকলেও সুবিধা পাচ্ছে না স্থানীয়রা
ফটিকছড়ির উন্নয়ন আলোচনায় গ্যাস-সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এলাকায় সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় মানুষের বড় অংশ গ্যাস-সুবিধা থেকে বঞ্চিত—এমন অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চা-বাগান, রাবারবাগান, কৃষি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে গ্যাস-সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে শিল্পায়নের সুযোগ বাড়বে। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা।
টিটিসি ও মহিলা কলেজের দাবি
ফটিকছড়িতে একটি সরকারি মহিলা কলেজ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার দাবিও দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের মতে, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে স্থানীয় মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন তারা।
বিশেষায়িত হাসপাতাল চান স্থানীয়রা
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও ফটিকছড়িবাসীর প্রত্যাশা রয়েছে। জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য অনেক সময় রোগীদের চট্টগ্রাম নগরের হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ফটিকছড়িতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হলে উপজেলা ও আশপাশের এলাকার মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। এতে জরুরি ও জটিল চিকিৎসার জন্য দূরে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজনও কমতে পারে।
ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা, যোগাযোগ, গ্যাস, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানসহ দীর্ঘদিনের দাবিগুলো সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গুরুত্ব পাবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
বাঁশখালীতে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা
প্রধানমন্ত্রীর বাঁশখালী সফরের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকার পর্যটন সম্ভাবনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসহ উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে পর্যটননির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে। আবাসন, পরিবহন, খাবারের ব্যবসা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও অন্যান্য সেবাখাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের জন্যও পর্যটনকে বিকল্প আয়ের একটি উৎস হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরের জলাবদ্ধতা-যানজটও বড় প্রত্যাশা
চট্টগ্রাম নগরবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খাল-নালা দখল ও দূষণ, কর্ণফুলী নদী রক্ষা এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এসব বিষয়ও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, শুধু সাময়িক সংস্কার নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে বদলে যায় নগরের চিত্র
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পরিচ্ছন্নতা, সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। সড়কের খানাখন্দ মেরামত, ডিভাইডারে রং, ফুটপাত পরিষ্কার এবং আশপাশের আবর্জনা অপসারণ করা হয়।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে যে পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কার্যক্রম হয়েছে, তা যেন শুধু ভিআইপি সফরের সময় সীমাবদ্ধ না থাকে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এসব উদ্যোগকে স্থায়ী করা হলে সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও ছিল ব্যস্ততা
প্রধানমন্ত্রীর সফরে উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিও ছিল। ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় আলেম সমাজের সঙ্গে সাক্ষাতের পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন তিনি।
সফরের শেষভাগে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয়ে মতবিনিময় হয়। নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা এতে অংশ নেন।
এ ধরনের মতবিনিময়ের মাধ্যমে তৃণমূলের সাংগঠনিক বাস্তবতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে দলীয় নেতারা মনে করছেন।
প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই এখন বড় প্রশ্ন
এক দিনের সফরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। বন্যার্তদের পুনর্বাসন, নতুন ঘর, আর্থিক সহায়তা, মাতারবাড়ী মেগা প্রকল্প, ফটিকছড়ির শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো, গ্যাস-সুবিধা, শিল্পায়ন, রেল ও সড়ক যোগাযোগ এবং পর্যটন—সব মিলিয়ে প্রত্যাশার ক্ষেত্রটি বেশ বিস্তৃত।
তবে সফর শেষে চট্টগ্রামবাসীর মূল আগ্রহ এখন বাস্তবায়নকে ঘিরে। ফটিকছড়িতে শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠে কি না, স্থানীয়দের গ্যাস-সুবিধা বাড়ে কি না, নাজিরহাট-রামগড় রেলপথের অগ্রগতি হয় কি না, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো স্থায়ীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না এবং বাঁশখালীর পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায় কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরই সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।
একইভাবে চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা, যানজট ও অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান কতটা এগোয়, সেটিও প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের দীর্ঘমেয়াদি মূল্যায়নের অন্যতম মাপকাঠি হয়ে থাকবে।
অর্থাৎ, সফরে ঘোষণা ও প্রত্যাশার যে নতুন অধ্যায় তৈরি হয়েছে, তার প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে এসব উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তার কতটা দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে তার ওপর।








