Logo

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সংসদ ভবনে চলছে প্রস্তুতি সভা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৫০
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সংসদ ভবনে চলছে প্রস্তুতি সভা
ছবি: সংগৃহীত

সাড়ে তিন দশক পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্টদের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সভা। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে সংসদ ভবনের নিচতলায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ সভা শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণের ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সভায় আলোচনা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ পরিচালক মনির হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবনে এই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ কক্ষ ব্যবহার করা হলে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হবে। এসব বিষয়ও সভায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

সভায় সংসদ ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা

বিজ্ঞাপন

প্রস্তুতি সভায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব উপস্থিত রয়েছেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলও সভায় অংশ নিয়েছে।

মনির হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদ ভবনে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজ রয়েছে। বিশেষ করে একাধিক প্রার্থী হলে সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কীভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, তা নিয়েও প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মাত্র দুই দিন আগে এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের প্রস্তুতি কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা

ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।

এরপর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট। যদি শেষ পর্যন্ত একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তাহলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন

একক প্রার্থী থাকলে ভোটের প্রয়োজন হবে না এবং তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। তবে একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

সাড়ে তিন দশক পর একাধিক প্রার্থীর সম্ভাবনা

দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

বিজ্ঞাপন

দলীয় প্রার্থীকে সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াত ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে।

ফলে মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হবে, সেদিকে এখন রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন এমপিরা

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দেশের সাধারণ ভোটাররা সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ পান না। জাতীয় সংসদের সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন। সাধারণ সংসদ নির্বাচন কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সাধারণত গোপন ব্যালটে হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোট হয় প্রকাশ্যে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে নির্বাচন ভবনে সিইসির কাছে।

মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত কার্যালয়েই সম্পন্ন হবে।

বিজ্ঞাপন

সংবিধান থেকে বদলেছে ভোটের পদ্ধতি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটপদ্ধতিতে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিলে সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল।

পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি আইনের মাধ্যমে প্রকাশ্য ভোটের বিধান চালু করা হয়। বর্তমানে একাধিক প্রার্থী হলে সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। ভোটগ্রহণের সময় নির্বাচনি কর্মকর্তাকে সহায়তা করার জন্য সংসদ সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

বিজ্ঞাপন

সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনসহ ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। এই সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখবেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সংসদে দলীয় অবস্থানের দিক থেকে বিএনপি সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনসহ দলটির সদস্য সংখ্যা ২৪৭। জামায়াতে ইসলামীর রয়েছে ৭৭টি আসন। এ ছাড়া সংসদে রয়েছেন ৮ জন স্বতন্ত্র সদস্য এবং এনসিপির ৮ জন সদস্য। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের রয়েছে ৩ জন সদস্য।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন, গণপরিষদ, খেলাফত মজলিশ ও জাগপার একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হলে সংসদে দলগুলোর আসনসংখ্যা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এখন নজর মনোনয়ন প্রক্রিয়ায়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সভার মধ্য দিয়ে সংসদ ও নির্বাচন কমিশন—দুই পক্ষই ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর স্পষ্ট হবে শেষ পর্যন্ত কতজন প্রার্থী নির্বাচনে থাকছেন।

একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট সংসদ কক্ষে ভোট হবে। আর একক প্রার্থী হলে ভোট ছাড়াই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকবে। ফলে মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাইয়ের ধাপ শেষ হওয়ার পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কোন পথে যাচ্ছে, তা পুরোপুরি পরিষ্কার হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD