মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপিতে শূন্য হবে শীর্ষ দুই পদ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে দলের মহাসচিব পদে কে দায়িত্ব নেবেন, স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলো কীভাবে পূরণ হবে এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে আসবেন—এসব বিষয় নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার বিষয়টি সামনে রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
তবে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের কেউই এখন পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। ফলে সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলোকে আপাতত দলীয় পর্যায়ের আলোচনা ও সম্ভাবনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
শূন্য হতে পারে বিএনপির দুটি স্থায়ী কমিটির পদ
বিজ্ঞাপন
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে বিএনপির মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসার পাশাপাশি দলের স্থায়ী কমিটিতেও একটি পদ শূন্য হবে। এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার হওয়ার কারণে স্থায়ী কমিটির একটি পদ শূন্য হয়েছিল।
ফলে দুটি শূন্য পদ নিয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে দলটির আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলের সময়সূচির কারণে এই মুহূর্তে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণ না করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
দলের চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, আগামী শীত মৌসুমে, বিশেষ করে নভেম্বরের শেষ দিক থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে। কাউন্সিল সামনে থাকলে তার আগে স্থায়ী কমিটিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিবর্তে কাউন্সিলের মাধ্যমেই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
মহাসচিব পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রিজভী
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভীর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দলের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে রিজভীকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে শেষ পর্যন্ত কে দায়িত্ব পাবেন, সে সিদ্ধান্ত বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের নীতিনির্ধারকদের ওপর নির্ভর করবে।
বিজ্ঞাপন
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও মহাসচিব পদ নিয়ে আলোচনায় রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
এ ছাড়া তুলনামূলক তরুণ ও কর্মীবান্ধব কোনো নেতাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর মতে, মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এবং দলের নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারেন—এমন নেতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যিনি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবেন, তাকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্থায়ী কমিটিতে কারা আসতে পারেন
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর স্থায়ী কমিটিতে শূন্য পদ পূরণের প্রয়োজন হলে সম্ভাব্য কয়েকজন নেতার নামও আলোচনায় এসেছে।
দলীয় সূত্রে সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিজ্ঞাপন
তবে এসব নাম নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় কাউন্সিলের আগে নাকি কাউন্সিলের মাধ্যমে এসব পদে পরিবর্তন আনা হবে, সেটিও এখনো পরিষ্কার নয়।
দায়িত্ব নিয়ে যা বললেন রুহুল কবির রিজভী
নিজের সম্ভাব্য মহাসচিব বা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার আলোচনা সম্পর্কে রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তিনি দলের প্রতি সম্পূর্ণ আনুগত্য রেখে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে রিজভী জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। দল তাকে যে দায়িত্ব দেবে, সেটি বিএনপির চেয়ারম্যান এবং দলের নীতিনির্ধারকরাই নির্ধারণ করবেন।
তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সম্ভাব্য দায়িত্ব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা থাকলেও তিনি নিজে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানেন না।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও আসতে পারে পরিবর্তন
বিজ্ঞাপন
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে শুধু বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতেই নয়, সরকারের মন্ত্রিসভাতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। কারণ বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার মন্ত্রিত্বের পদটি শূন্য হবে। ফলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে বর্তমান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের জন্য আলোচনায় রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পরই মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।
ফখরুলের সংসদীয় আসন নিয়েও শুরু আলোচনা
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আসনটিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়েও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে ফখরুলের পরিবারের কোনো সদস্যকে প্রার্থী করা হবে কি না, নাকি দলের অন্য কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
রিজভীর সম্ভাবনার কথা বললেন আব্দুস সালাম আজাদ
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদও রুহুল কবির রিজভীকে সম্ভাব্য ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে এগিয়ে রাখার কথা জানিয়েছেন।
তার মতে, দীর্ঘ সময় ধরে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে রিজভীর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। সে কারণে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রিজভীর সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করেন তিনি।
তবে একই সঙ্গে আব্দুস সালাম আজাদ জানিয়েছেন, শুধু রিজভীর নামই আলোচনায় নেই। বিএনপির চেয়ারম্যান চাইলে গঠনতান্ত্রিক ক্ষমতাবলে অন্য কাউকেও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দিতে পারেন।
ফলে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হলে বিএনপির মহাসচিব পদে পরবর্তী নেতৃত্ব কে দিচ্ছেন, সেটিই এখন দলটির ভেতরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদ, স্থায়ী কমিটির দুটি আসন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং তার সংসদীয় আসন—এই চারটি ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আলোচনায় থাকা নামগুলোকে সম্ভাব্য হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।








