Logo

জুলাই জাদুঘরে ভারতীয় আগ্রাসনের স্মৃতি নেই, ভয় পাচ্ছে বিএনপি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:২৯
জুলাই জাদুঘরে ভারতীয় আগ্রাসনের স্মৃতি নেই, ভয় পাচ্ছে বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর গণভবনকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতার একটি প্রতিনিধিদল জাদুঘরটি ঘুরে দেখে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে।

বিজ্ঞাপন

জুলাই আন্দোলনের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক থাকা নাহিদ ইসলাম বর্তমানে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং এনসিপির আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন।

জাদুঘর পরিদর্শনের পর সেখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। বিশেষ করে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে বাংলাদেশিদের হত্যাকাণ্ড এবং ভারতবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতি প্রদর্শনী থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নাহিদ ইসলাম বলেন, জাদুঘরের পরিকল্পনায় সীমান্ত হত্যার জন্য একটি আলাদা অংশ ছিল। সেখানে বিএসএফের হাতে নিহত বাংলাদেশিদের তালিকা এবং ফেলানী হত্যাকাণ্ডের স্মারক হিসেবে একটি ভাস্কর্য রাখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব উপাদান সেখানে দেখা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

তার অভিযোগ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী আন্দোলনের কিছু ছবি ও স্মৃতিও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি হয়তো ভারতকে ভয় পাচ্ছে। ভারতকে ভয় না পেলে ইতিহাসের অংশ হিসেবে এসব বিষয় জাদুঘরে রাখা হবে না কেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

জাদুঘর পরিদর্শনের পর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় ৩০ মিনিট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন নাহিদ ইসলাম। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

নাহিদ জানান, জুলাই জাদুঘর দ্রুত সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি সংসদে এবং সংসদের বাইরেও একাধিকবার কথা বলেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও তিনি জাদুঘরের কার্যক্রম পরিদর্শনে এসেছিলেন বলে জানান।

তার দাবি, ওই সময় জাদুঘর নিয়ে যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার এসে তাতে কিছু পরিবর্তন এনেছে। সে সময় বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও সেখানে ছিলেন বলে জানান তিনি।

জাদুঘরের বর্তমান উপস্থাপনায় বিএনপির নির্যাতনের বিষয়বস্তু তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তার মতে, সেখানে দলীয় বক্তব্য ও রাজনৈতিক বয়ানের উপস্থিতি বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘরকে একটি চলমান ও নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায় আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।

নাহিদ বলেন, আন্দোলনের ঘটনাগুলো ধারাবাহিক সময়রেখার ভিত্তিতে উপস্থাপন করা দরকার। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকা আলাদাভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন জেলার আন্দোলনও যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রদর্শন করা উচিত।

তার ভাষ্য, ঢাকার বাইরেও আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন, প্রতিরোধ ও সহিংসতার অনেক ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয় জাদুঘরে যথেষ্টভাবে উঠে আসেনি। একই সঙ্গে পরিচিত কয়েকজন মুখকে বারবার সামনে আনার পরিবর্তে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর ভূমিকা তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অতীতে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যপুস্তক ও ইতিহাসের উপস্থাপনাতেও পরিবর্তন এসেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাসের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সেটিই তারা চান।

তার মতে, জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস, বক্তব্য ও স্মৃতিকে জাতীয় চরিত্রের মধ্যে রাখতে হবে এবং সেখানে রাজনৈতিক পক্ষপাতের পরিবর্তে প্রকৃত ঘটনা ও সত্য তুলে ধরতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জুলাই জাদুঘরে বিপুলসংখ্যক মানুষ আসছেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে এই দর্শনার্থীর চাপ সামলানো কঠিন। জাদুঘরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার মতে, যারা সরাসরি গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন এবং এর চেতনা ধারণ করেন, তাদের সম্পৃক্ত করেই জাদুঘরের কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।

জাদুঘর পরিদর্শনের সময় নাহিদ ইসলামের সঙ্গে এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন ও নুসরাত তাবাসসুম, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম, সারোয়ার তুষার, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ ও মাহিন সরকার।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার এবং চট্টগ্রামের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিসহ আরও অনেকে কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD