Logo

শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে: নাহিদ ইসলাম

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:৫৭
শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে: নাহিদ ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে। এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি একটি কঠোর মন্তব্য করেন, যা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন, তাহলে তাকে বিমানবন্দর থেকেই ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি উপস্থিত জুলাই আন্দোলনের আহত ব্যক্তি ও সমর্থকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, এমন পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত কি না। তার দাবি, বিচার কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত জনগণ রাজপথে অবস্থান করবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ‘এক দফা’ কেবল সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠাই ছিল আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। তবে দুই বছর পরও সেই উদ্দেশ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র সংস্কার, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং বিচার নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবার এখনো প্রত্যাশিত বিচার পায়নি এবং আহতদের পুনর্বাসনও সম্পূর্ণ হয়নি।

সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুম ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচার কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধাও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো বহাল রেখে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। এজন্য একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি সরকারকে দ্রুত বিচার ও সংস্কার বাস্তবায়নের একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানান। অন্যথায় আন্দোলন আরও জোরদার হবে বলেও সতর্ক করেন।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নের প্রশ্নে সব পক্ষের ঐক্য প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জেলায় জুলাই আন্দোলনের আহতদের তালিকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন নাম যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এতে প্রকৃত আহতদের স্বীকৃতি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সভায় আরও বক্তব্য দেন শহীদ জাবের ইব্রাহিমের মা ও সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম, জাতীয় নারীশক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা আলম মিতু, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় নারীশক্তির মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম এবং জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা। বক্তারা বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং শহীদ পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করার দাবির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD