Logo

‘৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার হলে অলি আহমদই হতেন রাষ্ট্রপতি’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:০৫
‘৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার হলে অলি আহমদই হতেন রাষ্ট্রপতি’
ছবি: সংগৃহীত

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার হলে ১১ দলীয় ঐকের মনোনীত প্রার্থী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখতেন বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১০ আগস্ট) নির্বাচন কমিশন থেকে ১১ দলীয় ঐকের পক্ষে অলি আহমদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে ১১ দলীয় ঐক্য প্রধান বিষয় হিসেবে দেখছে না। বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করা এবং দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা আরও শক্তিশালী করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

কেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিল ১১ দল

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও কেন ১১ দলীয় ঐক্য প্রার্থী দিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে গণতান্ত্রিক চর্চার পরিসর সংকুচিত হয়।

তিনি সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের শাসনব্যবস্থা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বিবেচনায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তার ভাষায়, রাষ্ট্রপতি পদ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। সেখানে যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক ধারার সুস্থ চর্চা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিজ্ঞাপন

১১ দলীয় ঐক্য দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা এবং সুস্থ ধারার রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।

৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে যে যুক্তি

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে যে বিধিনিষেধ রয়েছে, সেটি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে ১১ দলীয় ঐক্য—এমন দাবি করেন হামিদুর রহমান আযাদ।

বিজ্ঞাপন

তার বক্তব্য অনুযায়ী, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের সুযোগ তৈরি হতো। তখন সংসদ সদস্যরা আরও স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন।

তিনি বলেন, একদিকে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে দলীয় বিধিনিষেধের মাধ্যমে সেই স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে। তার মতে, সংসদ সদস্যদের প্রকৃত স্বাধীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই সাংবিধানিক সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

হামিদুর রহমান আযাদের দাবি, ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার হলে সংসদ সদস্যরা দলীয় নির্দেশনার বাইরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজেদের বিবেচনা অনুযায়ী ভোট দিতে পারতেন। সে ক্ষেত্রে অলি আহমদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতো।

বিজ্ঞাপন

১৯৯১ সালের নির্বাচন টেনে যে ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে ১৯৯১ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদাহরণ দেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ওই সময় বিএনপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও জামায়াত সরকার গঠনে বিএনপিকে সহযোগিতা করেছিল। সে সংসদে জামায়াতের ১৮টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৫টি আসনসহ অন্যান্য দলেরও আসন ছিল।

হামিদুর রহমান আযাদের বক্তব্য, ওই সময় বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অন্য দলগুলো একক অবস্থান নিলে ফলাফল ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি বাস্তব সুযোগ ছিল।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সেই সম্ভাবনা না থাকলেও ১১ দলীয় ঐক্য নিজেদের প্রার্থী দিয়ে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে চায় বলে জানান তিনি।

বিএনপির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ

১১ দলীয় ঐকের প্রার্থী দেওয়ার পেছনে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হামিদুর রহমান আযাদ। তার অভিযোগ, জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছিল এবং পরবর্তী সময়ে গণভোটে জনগণও তাদের মতামত দিয়েছে। কিন্তু সেই রায় বিএনপি বাস্তবায়ন করেনি বলে দাবি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তার মতে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের বিষয়টিও সামনে আসত। এর ফলে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারত।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সেই অধিকারের ওপর দলীয় নিয়ন্ত্রণ রাখা হলে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ভোটাধিকার নিশ্চিত হয় না।

অলি আহমদকে যোগ্য প্রার্থী দাবি

বিজ্ঞাপন

১১ দলীয় ঐকের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদের রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, অলি আহমদ একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ের একজন রণাঙ্গন কমান্ডার। স্বাধীনতাযুদ্ধে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

হামিদুর রহমান আযাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চাকরিতে আরও কয়েক বছর থাকার সুযোগ থাকলেও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে অলি আহমদ রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

অলি আহমদকে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকার কারণে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া অলি আহমদের পিএইচডি ডিগ্রি ও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথাও তুলে ধরে তাকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন হামিদুর রহমান আযাদ।

‘জাতি একজন যোগ্য মানুষের সেবা থেকে বঞ্চিত হলো’

হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেন, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারতেন।

আরও পড়ুন

তার ভাষ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হওয়ায় সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে অলি আহমদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার যে সম্ভাবনা ছিল, সেটি আর বাস্তবায়িত হয়নি।

এ জন্য বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে তাদের অনাগ্রহের সমালোচনা করেন তিনি। তার দাবি, এর ফলে রাষ্ট্র একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তির সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

১৩ আগস্ট মনোনয়ন দাখিল

সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। ১১ দলীয় ঐকের পক্ষে তিনি অলি আহমদ বীর বিক্রমের মনোনয়ন ফরম নেন।

এ সময় ১১ দলীয় ঐকের বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল হোসেন, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নূরন্নেসা সিদ্দিকা ও মারজিয়া বেগম এবং এলডিপির প্রতিনিধি বিল্লাল মিয়াজী ছিলেন।

এ ছাড়া জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সাল এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মোহাম্মদ শহিদুল আলমসহ জোটের অন্য প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, অলি আহমদের পক্ষে সংগ্রহ করা মনোনয়ন ফরম আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১১টায় নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD