Logo

কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, ফরম সংগ্রহের পর বাড়ছে রহস্য

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:৪৪
কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, ফরম সংগ্রহের পর বাড়ছে রহস্য
ছবি : জনবাণী গ্রাফিক্স

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবে রবিবার নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে দলটি। এরপরই কে হতে যাচ্ছেন বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ।

বিজ্ঞাপন

আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অধ্যাপক ড. আব্দুল মঈন খান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম থাকলেও শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে আলোচনায় থাকা কোনো একজনকে নাকি নতুন কোনো মুখকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বিএনপির পক্ষে একটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। অপর ফরমটি সংগ্রহ করেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি। তবে ফরম দুটি শেষ পর্যন্ত কার নামে জমা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বিজ্ঞাপন

এ কারণে দুটি ফরম সংগ্রহকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—এটি কি কেবল নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ, নাকি এর পেছনে রয়েছে শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক কৌশল?

আলোচনায় তিন নাম

বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মঈন খান এবং স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বিজ্ঞাপন

গত জুলাইয়ের আলোচনায় মির্জা ফখরুল ও মঈন খানের পাশাপাশি খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং নজরুল ইসলাম খানের নামও উঠে এসেছিল।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল নিজেও একাধিকবার জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত দলীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামে হবে। গত ২৫ জুলাই তিনি বলেছিলেন, বিএনপির বৈঠক ও স্থায়ী কমিটির সভার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

অর্থাৎ প্রকাশ্য বক্তব্য অনুযায়ী, এখনো চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

কেন আলোচনায় মির্জা ফখরুল?

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলোর একটি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালন, সরকার ও দলের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা এবং তুলনামূলক সংলাপমুখী রাজনৈতিক ভাবমূর্তি তার পক্ষে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

বিএনপির বাইরেও তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার আলোচনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হলে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে। কারণ তিনি একই সঙ্গে দলের মহাসচিব ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। তাকে বঙ্গভবনে পাঠানো হলে দলের নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। ফলে প্রার্থী বাছাইয়ে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মঈন খানও আলোচনায়

রাষ্ট্রপতি পদে অধ্যাপক ড. আব্দুল মঈন খানের নাম নতুন করে সামনে এলেও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে তার নাম নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষাগত ও পেশাগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি খাতে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে মঈন খানের। তিনি পরিকল্পনা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে তার প্রোফাইলকে শক্তিশালী মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এর আগে স্পিকার নির্বাচনের সময়ও তার নাম আলোচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সিদ্ধান্তে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার নির্বাচিত হন।

এই ঘটনাটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এতে দেখা গেছে, আলোচনায় থাকা কোনো নামই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বিজ্ঞাপন

হাফিজ উদ্দিনকে ঘিরে ভিন্ন সমীকরণ

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হিসেবে তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।

ফলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তিনি এরই মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতি করা হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি থেকে পূর্ণ রাষ্ট্রপতি হওয়ার একটি ধারাবাহিকতা তৈরি হবে।

তবে সেটি একই সঙ্গে বড় রাজনৈতিক চমকও হতে পারে। স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া এবং পরে স্থায়ীভাবে ওই পদে বহাল হওয়া বিএনপির নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে।

দুটি ফরম সংগ্রহের অর্থ কী?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রোববার দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ বিএনপির সবচেয়ে দৃশ্যমান রাজনৈতিক পদক্ষেপ। তবে দুটি ফরম নেওয়া হয়েছে বলেই দুটি নির্দিষ্ট প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন

অর্থাৎ প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বিএনপির হাতে এখনো কয়েক দিন সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা, সম্ভাব্য প্রার্থীর সম্মতি এবং মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে।

প্রয়োজনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগও রয়েছে। তাই দুটি ফরমকে এখনই দুটি চূড়ান্ত প্রার্থীর ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিকল্প রাখার কৌশলও এর পেছনে থাকতে পারে।

সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে তারেক রহমান?

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব রাজনৈতিক সমীকরণে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এর আগে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে আলোচনায় থাকা নামের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নজির রয়েছে। স্পিকার পদে মঈন খানের নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্বাচিত হন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও একই ধরনের কৌশল নেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন আলোচনার বড় বিষয়।

মির্জা ফখরুল, মঈন খান ও হাফিজ উদ্দিনের বাইরে শেষ মুহূর্তে অন্য কোনো নাম সামনে আসবে কি না, তাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

চমক নাকি হিসাবি সিদ্ধান্ত?

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে।

বিএনপির সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। ফলে এই নির্বাচন কেবল সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্য, দলের নেতৃত্ব কাঠামো এবং রাষ্ট্র পরিচালনার রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

মির্জা ফখরুলকে বঙ্গভবনে পাঠানো হলে বিএনপির মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসতে পারে। মঈন খান রাষ্ট্রপতি হলে দলের অভিজ্ঞ নীতিনির্ধারকদের একজন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে যাবেন। আর হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্থায়ী রাষ্ট্রপতি করা হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার বর্তমান ভূমিকার ধারাবাহিকতা তৈরি হবে।

তবে এই তিনজনের বাইরে নতুন কোনো নাম সামনে এলে সেটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চমক।

বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা কে?

দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে বিএনপির প্রস্তুতি স্পষ্ট হয়েছে। কিন্তু ফরম দুটির আড়ালে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম এখনো অপ্রকাশিত।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্যতম আলোচিত প্রার্থী। অধ্যাপক ড. আব্দুল মঈন খান রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ দাবিদার হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্থায়ীভাবে বঙ্গভবনে রাখার সিদ্ধান্ত হলে তা হবে বড় ধরনের রাজনৈতিক বার্তা।

বিএনপি আগে থেকেই একজনকে চূড়ান্ত করেছে, নাকি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একাধিক বিকল্প রাখা হয়েছে—তার উত্তর মিলবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়।

এখন নজর দলটির নীতিনির্ধারণী মহল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের দিকে। বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা কে হচ্ছেন, সে উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক দিন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD