মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীই কি হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি?

বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা হিসেবে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম দলটির ভেতরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। রাষ্ট্রপতি পদে তাকে প্রার্থী করার বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে দলটির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা জানান, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী বাছাই নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতোমধ্যে কয়েকজন নীতিনির্ধারকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বর্তমানে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএনপির নেতারা আগে থেকেই বলে আসছিলেন, এবার রাষ্ট্রপতি পদে একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদকে দেখতে চায় দলটি। একই সঙ্গে প্রার্থী দলের ভেতর থেকেই আসবেন—এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছিল। সেই অবস্থান থেকেই শেষ পর্যন্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নাম গুরুত্ব পেয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী না দেওয়ায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় বছর আগে পদত্যাগ করেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ পরিস্থিতিতে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুলকে বিবেচনায় আনার পেছনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, বিএনপির ভেতরে গ্রহণযোগ্যতা এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক অঙ্গনে তার ইতিবাচক ভাবমূর্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘ সময় ধরে দলের নানা সংকট মোকাবিলা, আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা এবং সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে বিএনপি নেতাদের দাবি।
বিজ্ঞাপন
বিএনপির এক শীর্ষ নেতার ভাষ্য, তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করেও দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে দেশের রাজনৈতিক মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত করা এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দলটির নেতাকর্মীদের একটি অংশ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে দেখতে আগ্রহী।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত হলেও দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের বিভিন্ন সময়ে এ পদটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় থাকায় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে গুরুত্ব রয়েছে। এসব বিবেচনায় বিএনপি দলীয় ভেতর থেকে একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি করতে চাইছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
মির্জা ফখরুল ছাড়াও রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় ছিল।
তবে মির্জা ফখরুলের নাম সামনে আসা নিয়ে বিএনপির ভেতরে ভিন্নমতও রয়েছে। একটি পক্ষ মনে করছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে বঙ্গভবনে পাঠানো উচিত। অন্য পক্ষের মতে, সরকার পরিচালনায় তার মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের প্রয়োজন রয়েছে। ফলে তিনি রাষ্ট্রপতি হলে সরকারে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
জামায়াতের অবস্থান
বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, তিনি শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ার কারণও জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার বিপরীতে প্রার্থী দিয়েও নির্বাচিত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নেই। এ কারণেই তারা প্রার্থী দিচ্ছে না। তবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মাত্র একবার সংসদে ভোটাভুটি হয়েছিল। ১৯৯১ সালের ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৩ আগস্ট। মনোনয়নপত্র যাচাই হবে ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হলে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে বিএনপির ভেতরে আলোচনা জোরালো হয়েছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সেই বাস্তবতায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা








