Logo

রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ‘ভুয়া’ স্লোগান অত্যন্ত দুঃখজনক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:২৮
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ‘ভুয়া’ স্লোগান অত্যন্ত দুঃখজনক
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় আয়োজনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং বক্তব্য চলাকালে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেছেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে এমন আচরণ দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে প্রদর্শিত একটি সরকারি ডকুমেন্টারি নিয়ে আপত্তি তুলে উপস্থিত কয়েকজন অংশগ্রহণকারী প্রতিবাদ জানান। তাদের অভিযোগ ছিল, ডকুমেন্টারিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিলনায়তজুড়ে হট্টগোল ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, বক্তব্যের সময় ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে চিৎকার করা কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের শোভা পায় না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এ ধরনের শিষ্টাচার আমরা কবে শিখব? এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে সৃষ্ট এ পরিস্থিতিকে অনভিপ্রেত উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের কাজে ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে, তবে সেগুলো আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সংশোধন করা সম্ভব। কিন্তু বিদেশি অতিথিদের সামনে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা দেশের জন্য বিব্রতকর এবং এটি তাকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যথিত করেছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান—উভয় আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা। গণতন্ত্রকে কখনোই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। দেশে যতদিন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকবে, ততদিন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও অক্ষুণ্ন থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্কের পরও দেশে ফেরার ঘোষণার বিষয়টি নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন এবং বলেন, আইন ও বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সাহস থাকলে দেশে ফিরে আসতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ৮২ বছর বয়সী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, তিনি ২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। জীবনের এই পর্যায়েও দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে দায়িত্ব পালন করে যেতে চান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণদের সাহসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আবু সাঈদের মতো নিরস্ত্র অবস্থায় বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর সাহস পৃথিবীর খুব কম জাতির মধ্যেই দেখা যায়। এই আত্মত্যাগ ও বীরত্ব দেশের ইতিহাসে গৌরবের অধ্যায় হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন হতাশ না হন। রাষ্ট্র তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাবে এবং তাদের পাশে থাকার দায়িত্ব পালন করবে। বিশেষ করে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহতদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিভেদ নয়, বরং ঐক্যই হওয়া উচিত সবার প্রধান শক্তি। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বানও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD