Logo

‘তারা নাকি ডিসেম্বরে আসবে; আসেন, দেখা হবে রাজপথে’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ আগস্ট, ২০২৬, ২০:৪৪
‘তারা নাকি ডিসেম্বরে আসবে; আসেন, দেখা হবে রাজপথে’
ছবি: সংগৃহীত

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন—এমন প্রচারণার প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, তারা দেশে এলে রাজপথে তাদের সঙ্গে দেখা হবে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পলাতক ফ্যাসিস্ট বলে যে ডিসেম্বর মাসে তারা দেশে এসে পদার্পণ করবেন। আমরা অপেক্ষায় আছি। দেশে আসেন, দেখা হবে ইনশাল্লাহ রাজপথে।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, তারা নানা অন্যায়-অবিচার, খুন-গুম, অর্থপাচার, হত্যা, নির্যাতন ও আয়নাঘরের মতো ঘটনার জন্য কোনো অনুশোচনা বা লজ্জা প্রকাশ করেনি।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের দেখভাল করা। একই সঙ্গে যারা আহত হয়েছেন, দৃষ্টিশক্তি বা অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, সজল, রাব্বি, মেরাজ, এলেম, তাইম, নাইমা, শিশু রিয়া গোপ, আহাদসহ সব শহীদকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তিনি। তাদের আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

নিজের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২৭ বছর বয়সে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। এখন ৮২ বছর বয়সেও বাংলাদেশের জনগণের জন্য সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে চান।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে অনেক রাষ্ট্র থাকলেও উদ্যত বন্দুকের সামনে আবু সাঈদের মতো দুই হাত তুলে দাঁড়ানোর সাহস দেখাতে পারে এমন নাগরিক খুব কম। এমন সাহসী মানুষদের নিয়ে জাতি গর্বিত।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন জাতীয় লক্ষ্য হওয়া উচিত গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা পাবেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশ বর্তমানে নতুন যাত্রার সূচনালগ্নে রয়েছে। এ পথ সহজ নয়। মতের পার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্য, সংযম ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে।

তিনি জনগণকে বিভাজন, বিদ্বেষ ও সংকীর্ণ স্বার্থের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যাতে এসব কারণে দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত না হয়।

বিজ্ঞাপন

শেষে তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের রক্তে অর্জিত নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার নিতে হবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD