Logo

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় এখন তিন নেতা, আজই হতে পারে সিদ্ধান্ত

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:৪১
রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় এখন তিন নেতা, আজই হতে পারে সিদ্ধান্ত
ছবি: সংগৃহীত

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হয়েছে। গত কয়েক দিনে এক ডজনের বেশি নাম আলোচনায় এলেও দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে এখন তিনজনের নামই বেশি শোনা যাচ্ছে। আজ শনিবার (১ আগস্ট) বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

আলোচনায় থাকা তিন নেতা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান এবং দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলীয় সূত্র বলছে, শনিবারের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে থাকবে কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় না থাকলে আগের মতোই স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্তের ভার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দিতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে কেউ কেউ বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রোফাইল এরই মধ্যে উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নাম চূড়ান্ত হয়নি।

যেসব বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে

দলীয় আলোচনা সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শুধু দলীয় রাজনীতির বিষয়টি নয়, দেশের কূটনৈতিক ভারসাম্য, সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে। বিভিন্ন পর্যায় থেকে মতামত নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত এমন একজনকে বেছে নেওয়ার চিন্তা রয়েছে, যিনি দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য, অভিজ্ঞ এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে বলে বিবেচিত।

বিজ্ঞাপন

আলোচনায় আবদুল মঈন খান

সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খানের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা, নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা, আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা এবং পরিকল্পনা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তার প্রোফাইলকে শক্তিশালী মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

বিজ্ঞাপন

হাফিজ উদ্দিন আহমেদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সাংবিধানিক ও সংসদীয় অভিজ্ঞতা গুরুত্ব পাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতাও তার সম্ভাব্য প্রার্থিতার ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ক্ষেত্রে রয়েছে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা। তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় তার নাম আসার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে বিএনপির দায়িত্বশীল কোনো নেতা এখনো রাষ্ট্রপতি পদে কারও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবে বলে সূত্রগুলোর দাবি। এর আগে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানার সম্ভাবনা কম। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর।

আজই কি সিদ্ধান্ত?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হয়েছে। কে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়া উচিত—এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাজনীতি বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুল আটটি বিষয় বিবেচনার কথা বলেছেন।

তার মতে, রাষ্ট্রপতির পাঁচ বছরের মেয়াদ, সম্ভাব্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তার ভূমিকা, রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা, অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সর্বজনস্বীকৃত ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাগত ও কূটনৈতিক যোগ্যতা, সরকার ও দলের বর্তমান সাংগঠনিক বাস্তবতা এবং রাষ্ট্রপতির শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা—সবকিছু সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সবদিক বিবেচনায় বিএনপির বর্তমান স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে দু-একজন ছাড়া অন্য কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনা করা দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে। তার মতে, ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেক সময় আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তবে অতীতে এমন সিদ্ধান্তের ফল সবসময় ইতিবাচক হয়নি। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবেগের পরিবর্তে যুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান মনে করেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে বেছে নেওয়া উচিত, যার বিরুদ্ধে অগ্রহণযোগ্য কোনো রেকর্ড বা দুর্নীতির অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী।

তার মতে, বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভাকে অনেক সময় অভিভাবকহীন মনে হয়। তাই অবসরপ্রাপ্ত কোনো জ্যেষ্ঠ বিচারপতির মতো অভিজ্ঞ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কাউকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হলে সরকার ও রাষ্ট্র—উভয়ই উপকৃত হতে পারে।

তবে দলীয়ভাবে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হলে এমন একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে বেছে নেওয়া উচিত, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে বলেও মত দেন তিনি। একই সঙ্গে দুই যুগ আগে বিএনপি সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ইয়াজউদ্দিন আহমদের মতো ব্যক্তিত্বকে নতুন করে এ পদে বেছে না নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD