রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানে কী বলা আছে?

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। নির্বাচনকে ঘিরে সংবিধান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন এবং বিধিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে নির্বাচন আয়োজন, প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা এবং ভোটগ্রহণের নিয়ম।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজউদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। সবশেষে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যদি একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। অন্যদিকে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা। সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। যদিও তফসিল ঘোষণার জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই, তবে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া ওই সময়সীমার মধ্যেই শেষ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন বৈঠকের মাধ্যমে তফসিল অনুমোদন করে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সরকারি গেজেটে তা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এই নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বও পালন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা
বিজ্ঞাপন
সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি তার বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
মনোনয়নপত্রে যা থাকতে হবে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে জাতীয় সংসদের একজন সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজন সদস্যকে সমর্থক হতে হবে। কোনো সংসদ সদস্য একাধিক প্রার্থীর প্রস্তাবক বা সমর্থক হিসেবে থাকতে পারবেন না। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন যাচাই-বাছাই করে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কারা ভোটার?
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দেশের সাধারণ নাগরিক ভোট দিতে পারেন না। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরাই এই নির্বাচনের একমাত্র ভোটার। অর্থাৎ সংসদ সদস্যদের ভোটেই দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
ভোটগ্রহণের নিয়ম
বিজ্ঞাপন
যদি একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উপস্থিত সংসদ সদস্যদের প্রদত্ত বৈধ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
তবে যাচাই-বাছাই শেষে যদি মাত্র একজন বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে কোনো ভোটগ্রহণ ছাড়াই রিটার্নিং অফিসার তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবেন। এর আগে ২০২৩ সালে মো. সাহাবুদ্দিন একই প্রক্রিয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। তাই সংবিধান, নির্বাচন আইন এবং নির্ধারিত বিধিমালা অনুসরণ করে পুরো নির্বাচন সম্পন্ন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।








